নদীতে ঝুলে থাকা বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে নিহত ২

হবিগঞ্জ জেলার মানচিত্র
হবিগঞ্জ জেলার মানচিত্র

হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার রত্না নদীতে ঝুলে থাকা বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে পৃথক নৌকা দুর্ঘটনায় দুজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন। তাঁদের লাশ আজ মঙ্গলবার দুপুরে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন নদী থেকে উদ্ধার করেন।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন জেলার লাখাই উপজেলার পূর্ব বুল্লা গ্রামের সঞ্জয় দাস (৪৫) ও বানিয়াচং উপজেলার আগুয়া গ্রামের আবদুল মতিন (৪৮)।

হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার সুজাতপুর ইউনিয়ন ও পাশের পৈলারকান্দি ইউনিয়নে সংযোগ স্থাপনকারী পল্লী বিদুত্যের সংযোগ লাইনটি রত্না নদীর ওপর দিয়ে বয়ে গেছে। নদীর মধুপুর ও বিষ্ণুপুর এলাকায় বিদ্যুতের তার খুঁটি থেকে ঝুলে আছে দীর্ঘদিন ধরে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে এ লাইন ঝুলে থাকার বিষয়টি বানিয়াচং পল্লী বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে জানানো হয়।

ফায়ার সার্ভিস ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, আজ সকালে হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার আগুয়া গ্রামের আবদুল মতিন পাশের লাখাই উপজেলার বুল্লা বাজারে যাচ্ছিলেন বাঁশ কেনার জন্য। তাঁর নৌকাটি রত্না নদীর মধুপুরে ওই বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে যায়। এ সময় বিদ্যুতায়িত হয়ে আবদুল মতিন নদীর পানিতে ডুবে যান।
এর আগে গতকাল সোমবার রাতে লাখাই উপজেলার বুল্লা থেকে বানিয়াচং উপজেলার মন্দরী ইউনিয়নের দুলালপুর গ্রামে ২৫ জন বরযাত্রী নিয়ে যাচ্ছিল একটি নৌকা। নৌকাটি একই তারে জড়িয়ে যায়। এ সময় নৌকার চারজন যাত্রী নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন। তিনজন আহত অবস্থায় উদ্ধার হলেও একজনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। আজ সকালে খবর পেয়ে হবিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের লোকজন ঘটনাস্থলে যান। তিন ঘণ্টা চেষ্টার পর দুজনের মরদেহ উদ্ধার করেন তাঁরা।

বিদ্যুতের সংযোগটি দুটি খুঁটি থেকে ঝুলে নদীর পানি ছুঁই ছুঁই অবস্থায় দেখতে পেয়েছেন বলে প্রথম আলোকে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের সদস্য নজরুল ইসলাম ও কায়সার মিয়া। তাঁদের ভাষ্য, বিদ্যুতের এ তার বর্ষা মৌসুমে নদীটি দিয়ে চলাচল করা নৌকাগুলোর জন্য দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

বানিয়াচং সুজাতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাদিকুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, নদীর ওপর দিয়ে যে বিদ্যুৎ–সংযোগটি গেছে, তা দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে। প্রায় সময়ই নৌকা দুর্ঘটনায় পড়ে। বিষয়টি বানিয়াচং পল্লী বিদ্যুৎকে অবহিত করা হয়েছে, কিন্তু তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। গতকাল বরযাত্রীর নৌকা দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার পর একজন নিখোঁজের বিষয়টি পল্লী বিদ্যুৎকে জানানো হয়েছে। এরপরও তারা সংযোগ চালু রাখে। কয়েক ঘণ্টা পর আজ একইভাবে বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে আরেকজন প্রাণ হারালেন।

এ ঘটনায় প‌ল্লি‌ বিদ্যুত স‌মি‌তি তা‌দের বা‌নিয়াচং উপ‌জেলার অ‌ভি‌যোগ কে‌ন্দ্রের ইনচার্জ মোস্তা‌ফিজুর রহমান‌কে সাম‌য়িকভা‌বে চাক‌রি থে‌কে বরখাস্ত ক‌রে‌ছে। এ বিষয়ে বানিয়াচং পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা ফোন ধরেননি।

হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক মোতাহের হোসেন প্রথম আলোকে জানান, ঘটনাস্থলে তিনি একজন প্রকৌশলী পাঠিয়েছেন। কী করে ঘটনাটি ঘটল, এ বিষয়ে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।