স্বামীকে নিয়ে যাচ্ছিলেন রাজশাহীতে। পথে কুষ্টিয়া পৌর বাস টার্মিনালে সড়ক পার হচ্ছিলেন। এ সময় একটি ইজিবাইকের ধাক্কায় স্বামী–স্ত্রী দুজনই সড়কে ছিটকে পড়েন। বাসের ধাক্কায় প্রাণ যায় স্বামীর। স্ত্রীও মাথায় আঘাত পান। আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শহরের চৌড়হাস পৌর টার্মিনাল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ওই ব্যক্তির লাশ কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। একই হাসপাতালের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন তাঁর স্ত্রী।
নিহত আকমল হোসেনের (৭০) বাড়ি রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার মাছপাড়া এলাকায়। তাঁর স্ত্রীর নাম রাজিয়া খাতুন।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আকমল তাঁর স্ত্রী রাজিয়াকে নিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাচ্ছিলেন। এ জন্য সকালে কুষ্টিয়ায় আসেন। কুষ্টিয়া পৌর বাস টার্মিনালের সামনে সড়ক পার হওয়ার সময় একটি ইজিবাইকের ধাক্কায় তাঁরা দুজনই সড়কে ছিটকে পড়েন। কুষ্টিয়া ছেড়ে যাওয়া ঢাকাগামী এফ কে সুপার ডিলাক্সের একটি বাস এই দম্পতিকে ধাক্কা দেয়। পরে স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আকমল হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত স্ত্রীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পরপরই চালক বাসটি নিয়ে পালিয়ে যান।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ইকবাল হোসেন বলেন, হাসপাতালে আসার আগেই ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। দুজনেরই মাথায় আঘাত ছিল। ওই ব্যক্তির স্ত্রী চিকিৎসাধীন। তাঁর মাথায় আঘাত গুরুতর। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।
বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে আকমল হোসেনের জামাতা মিনারুল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘শ্বশুরের লাশ এখনো মর্গে রাখা আছে। শাশুড়িকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। এখানে (কুষ্টিয়া) তেমন চিকিৎসা পাওয়া যাবে না।’
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।