সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.)–এর মাজারের সিলগালা করা ঐতিহাসিক ডেগ ও নতুন করে স্থাপন করা দানবাক্সের টাকা গণনা করে ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের মুদ্রা ও স্বর্ণালংকারও পাওয়া গেছে।
শনিবার সকাল নয়টার দিকে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মাজার প্রাঙ্গণে টাকা গণনা শুরু হয়। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে গণনা শেষ হয়।
পরে মাজার প্রাঙ্গণে উপস্থিত মানুষের উদ্দেশে প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ ঘোষণা করেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী। এ সময় সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান, জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন, সিলেট সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপকসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, বাংলাদেশি টাকার পাশাপাশি দানবাক্সে ১ ভরি ৯ আনা ২ রতি ওজনের স্বর্ণালংকার পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ব্রিটিশ ৫ পাউন্ড, ভারতীয় ৩ হাজার ৯৫৪ রুপি, থাইল্যান্ডের ৫ বাথ, সৌদি আরবের ৯৯ দশমিক ২৫ রিয়াল, মালয়েশিয়ার ২৯ রিঙ্গিত, ৮ মার্কিন ডলার, ওমানের ৯০৩ রিয়াল, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৫৭ দশমিক ২৫ দিরহাম, ইরাকের ১ দিনার, কাতারের ২১ দশমিক ৫০ রিয়াল, ৩০ দশমিক ১০ ইউরো, বাহরাইনের শূন্য দশমিক ২৫ দিনার, পাপুয়া নিউগিনির ৫০ কিনা, চীনের ১৫ ইউয়ান, ইন্দোনেশিয়ার ৫ হাজার রুপিয়াহ পাওয়া গেছে।
আবদুল কাইয়ুম আরও জানান, মাজারে দান হিসেবে পাওয়া গিয়েছিল ৬টি গরু ও ১১১টি ছাগল। এর মধ্যে লঙ্গরখানায় খাবারের জন্য ৫টি গরু ও ৭০টি ছাগল জবাই করা হয়েছে। ৪০টি ছাগল বিক্রি করে লঙ্গরখানার কর্মীদের মজুরি দেওয়া হয়েছে। একটি গরু ও একটি ছাগল দরিদ্র দুই মেয়ের বিয়ের জন্য দান করা হয়েছে।
এর আগে গত ১৫ আগস্ট তৃতীয় দফায় মাজারের ডেগ ও দানবাক্সের টাকা গণনা করে প্রায় পৌনে এক কোটি টাকা পাওয়া গিয়েছিল। তখন বাংলাদেশি টাকার পাশাপাশি পাউন্ড, ডলার, রিয়াল, রুপি, দিরহামসহ বিভিন্ন দেশের মুদ্রা পাওয়া যায়। গত ২২ জুন প্রথম দফায় মাজারের ডেগ ও দানবাক্সের টাকা গণনা করে প্রায় ১৭ লাখ টাকা পাওয়া যায়। ওই অর্থ ছিল চার দিনের দান। এরপর ১১ জুলাই দ্বিতীয় দফায় প্রায় অর্ধকোটি টাকা পাওয়া যায়।