কীর্তনখোলা গ্রামে অবস্থিত কালিয়ান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। গত বুধবার টাঙ্গাইলের সখীপুরে
কীর্তনখোলা গ্রামে অবস্থিত কালিয়ান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। গত বুধবার টাঙ্গাইলের সখীপুরে

নামের ‘গন্ডগোলে’ চারটি বিদ্যালয়, বিভ্রান্তিতে পড়েছিল পুলিশ, সরকারি বরাদ্দ নিয়েও জটিলতা

পাশাপাশি দুই গ্রাম। একটির নাম কীর্তনখোলা, অন্যটি কালিয়ানপাড়া। সমস্যা হলো কীর্তনখোলা গ্রামে যে স্কুল রয়েছে, সেটির নাম কালিয়ানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। আবার কালিয়ানপাড়া গ্রামে যে স্কুল আছে, তার নাম কীর্তনখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

আরেকটি গ্রামের নাম প্রতিমাবংকী উত্তরপাড়া। এই গ্রামে দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। দুটি বিদ্যালয়ের একই নাম—প্রতিমাবংকী উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার এই চারটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম নিয়ে বিভ্রান্তির কারণে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও সরকারি কর্মকর্তাদের। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বিদ্যালয়গুলোর নাম সংশোধন বা পরিবর্তনের উদ্যোগ না নেওয়ায় সমস্যা দিন দিন জটিল হচ্ছে। একবার এক বিদ্যালয়ে জাল ভোটের ঘটনায় নামের বিভ্রান্তির কারণে পুলিশ চলে গিয়েছিল অন্য বিদ্যালয়ে।
উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে একই গ্রামের দুটি বিদ্যালয়কে আলাদা করে চিহ্নিত করতে নামের শেষে ‘১’ ও ‘২’ যোগ করেছে। তবে সরকারি কাগজপত্রে এখনো সমস্যার পুরোপুরি সমাধান হয়নি।

‘সমস্যার’ শুরু যেভাবে

সখীপুর উপজেলা সদর থেকে পাঁচ কিলোমিটার পূর্বদিকে সখীপুর-সীডস্টোর সড়কের পাশে কীর্তনখোলা গ্রাম। এই গ্রামেই কালিয়ানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই বিদ্যালয় থেকে দেড় কিলোমিটার দক্ষিণে কালিয়ানপাড়া গ্রাম। এই গ্রামে কীর্তনখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

এক গ্রামের নামে আরেক গ্রামে কীভাবে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হলো, প্রথম আলোকে সেই গল্প শুনিয়েছেন কীর্তনখোলা গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক। তিনি অবশ্য গল্পটি তাঁর বাবা–দাদার কাছ থেকে শুনেছেন।

আবদুল মালেক বলেন, কীর্তনখোলা গ্রামের কালিয়ানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি করার ক্ষেত্রে কীর্তনখোলা ও কালিয়ানপাড়া—দুই গ্রামের মানুষেরই অবদান ছিল। তবে প্রতিষ্ঠার সময় মুরুব্বিদের মধ্যে এমন আলোচনাও ছিল, কালিয়ানপাড়ার মানুষ একটা সময় পর নিজেদের ‘বঞ্চিত’ ভাবতে পারেন। কারণ বিদ্যালয়টি কীর্তনখোলা গ্রামে স্থাপন করা হবে। পরে মুরুব্বিরা সিদ্ধান্ত নেন, বিদ্যালয় কীর্তনখোলা গ্রামে স্থাপিত হলেও নামকরণ হবে কালিয়ানপাড়ার নামে। এমন সিদ্ধান্তে দুই গ্রামের মানুষই সন্তুষ্ট হন।

কালিয়ানপাড়া গ্রামে অবস্থিত কীর্তনখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সম্প্রতি টাঙ্গাইলের সখীপুরে

ওই ঘটনার ২৭ বছর পর ১৯৬৫ সালে কালিয়ানপাড়ায় আরেকটি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তখন এলাকার মুরুব্বিরা আবার আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেন, যেহেতু কীর্তনখোলা গ্রামে কালিয়ানপাড়া নামে বিদ্যালয় আছে, তাই কালিয়ানপাড়া গ্রামের নতুন এই বিদ্যালয়ের নাম হবে কীর্তনখোলার নামে রাখা হবে।
কালিয়ানপাড়া গ্রামের কীর্তনখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী আমিনা আক্তারের বাবা সংগীতশিল্পী রাখাল রফিক প্রথম আলোকে বলেন, ‘গ্রাম ও স্কুল আমাদের। অথচ আমাদের বিদ্যালয়ের কথা বলতে গিয়ে অন্য গ্রামের নাম বলতে হয়। আমরা এ ধরনের বিড়ম্বনা আর চাই না।’

জাল ভোটের খবরে ভুল গ্রামে পুলিশ

নামের কারণে বিভ্রান্তির একটি ঘটনার কথা জানান কালিয়ানপাড়া গ্রামের বাসিন্দা কামাল হোসেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ২০১৭ সালের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে কালিয়ানপাড়া ও কীর্তনখোলা গ্রামের দুটি বিদ্যালয়ে পৃথক ভোটকেন্দ্র ছিল। একবার কালিয়ানপাড়া গ্রামের ভোটকেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই ইউপি সদস্য প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।

কিন্তু কালিয়ানপাড়া গ্রামের বিদ্যালয়টির নাম কীর্তনখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হওয়ায় পুলিশ প্রথমে কীর্তনখোলা গ্রামের বিদ্যালয়ে চলে যায়। সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত দেখে পুলিশ কিছুটা বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। পরে পুলিশ সদস্যরা জানতে পারেন, মারামারি হয়েছে কালিয়ানপাড়া গ্রামের ভোটকেন্দ্রে। এরপর পুলিশ সেখানে যায়।

কামাল হোসেন বলেন, ‘বিদ্যালয়ের নাম গ্রামের নামের সঙ্গে মিল না থাকায় এমন বিভ্রান্তি মাঝেমাঝেই হয়। জরুরি কিছু ঘটনা ঘটলে যে কারও ভুল জায়গায় চলে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।’

স্থানীয় সব পক্ষ ও জনপ্রতিনিধিরা চাইলে বিদ্যালয়গুলোর নাম পরিবর্তনের বিষয়ে আমি উদ্যোগ নিতে পারি।
মাসুদুর রহমান, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, সখীপুর, টাঙ্গাইল

কালিয়ানপাড়া গ্রামে অবস্থিত কীর্তনখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হামিদা আক্তার। তিনি দীর্ঘদিন এ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছেন।

হামিদা আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, ‘সরকারের উচিত বিদ্যালয়টির নাম পরিবর্তন করে গ্রামের নামে নামকরণ করা। তা না হলে সারা জীবন এই বিভ্রান্তি থেকেই যাবে। বিদ্যালয়ের নামের সঙ্গে এলাকার নামের মিল থাকলে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সরকারি কর্মকর্তাদের জন্যও সুবিধা হবে।’

একই নামে পাশাপাশি দুটি বিদ্যালয়

কালিয়ানপাড়া ও  কীর্তনখোলার মতোই সখীপুর উপজেলার ‘প্রতিমাবংকী উত্তরপাড়া’ নাম নিয়েও জটিলতা আছে। একই নামে পাশাপাশি দুটি স্কুলের (একটি থেকে আরেকটি ৫০০ গজ দূরে) একটির প্রতিষ্ঠাকাল ১৯৯৬ সালে। অন্যটি প্রতিষ্ঠা করা হয় ২০০২ সালে।

প্রতিমাবংকী উত্তরপাড়া–১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। গত বুধবার টাঙ্গাইলের সখীপুরে

প্রতিমাবংকী উত্তরপাড়া (২) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি সখীপুর পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত। এই বিদ্যালয়ের ৫০০ গজ পূর্ব দিকে প্রতিমাবংকী উত্তরপাড়া (১) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির অবস্থান।

বিদ্যালয় দুটির শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একটি বেসরকারি সংস্থার ব্যবস্থাপনায় ১৯৯৬ সালে প্রথমে প্রতিমাবংকী উত্তরপাড়া কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। স্কুলটিতে দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হতো। এরপর ২০০২ সালে বিদ্যালয়টির পাশে প্রতিমাবংকী উত্তরপাড়া রেজি. প্রাথমিক বিদ্যালয় নামে আরেকটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হয়। এই বিদ্যালয়ে শুরু থেকেই পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হতো।

প্রতিমাবংকী উত্তরপাড়া-২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক শামসুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, ২০১৩ সালে তৎকালীন সরকার সারা দেশের সব বেসরকারি রেজিস্টার্ড বা নিবন্ধিত প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করে। ওই সময় প্রতিমাবংকী উত্তরপাড়া বিদ্যালয়টির নাম থেকে রেজিস্টার্ড (রেজি.) শব্দটি বাদ দিয়ে সরকারি শব্দটি যোগ হয়। অন্যদিকে ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়ের নাম থেকে কমিউনিটি শব্দ বাদ দিয়ে সেখানেও সরকারি শব্দটি যোগ হয়। এর ফলে প্রতিমাবংকী উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নামে একই চত্বরে দুটি বিদ্যালয় এক নামই হয়ে যায়।

সখীপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, স্থানীয় সব পক্ষ ও জনপ্রতিনিধিরা চাইলে বিদ্যালয়গুলোর নাম পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি উদ্যোগ নিতে পারেন।

নামবিভ্রাটে বরাদ্দে জটিলতা

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিমাবংকী উত্তরপাড়া গ্রামে এক সময় বিদ্যালয় দুটি একই ক্যাম্পাসে ছিল। পরে একটি বিদ্যালয় সেখান থেকে প্রায় ৫০০ গজ পশ্চিম-দক্ষিণ দিকে সরিয়ে নেওয়া হয়। বর্তমানে দারিয়াপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে প্রতিমাবংকী উত্তরপাড়া-১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সখীপুর পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে প্রতিমাবংকী উত্তরপাড়া-২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অবস্থিত।

‘আমরা বিদ্যালয়ের খরচে সয়েল টেস্টসহ (মাটি পরীক্ষা) বিভিন্ন কাজে টাকাপয়সা খরচ করে কাজ অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছিলাম। পরে কাগজপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, বরাদ্দ করা টাকার বিপরীতে পাশের বিদ্যালয়ের কোড নম্বর দেওয়া হয়েছে।
সুমনা নাসরিন, প্রধান শিক্ষক, প্রতিমাবংকী উত্তরপাড়া-১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সখীপুর

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, নামের শেষে ‘১’ ও ‘২’ যোগ করা হলেও সরকারি বিভিন্ন কাগজপত্রে বিদ্যালয়ের কোড নম্বরসহ অন্যান্য তথ্যের অসামঞ্জস্য থাকায় নাম নিয়ে বিভ্রান্তি পুরোপুরি দূর হয়নি।

প্রতিমাবংকী উত্তরপাড়া-১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চারতলা ভবনের একতলা নির্মিত হয়েছে। কয়েক বছর আগে ভবনটির ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণের জন্য সরকারি বরাদ্দ আসে।

প্রতিমাবংকী উত্তরপাড়া–২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। গত বুধবার টাঙ্গাইলের সখীপুরে

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুমনা নাসরিন বলেন, ‘আমরা বিদ্যালয়ের খরচে সয়েল টেস্টসহ (মাটি পরীক্ষা) বিভিন্ন কাজে টাকাপয়সা খরচ করে কাজ অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছিলাম। পরে কাগজপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, বরাদ্দ করা টাকার বিপরীতে পাশের বিদ্যালয়ের কোড নম্বর দেওয়া হয়েছে।’

সুমনা নাসরিন বলেন, পাশের বিদ্যালয়ে কোনো ভবনই নেই। সেখানে ঊর্ধ্বমুখী ভবন নির্মাণের সুযোগও নেই। কোড নম্বর ভুল হওয়ায় বরাদ্দটি চলে যায়। এতে দুই বিদ্যালয়ই ওই বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হয়। বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের জন্য গ্রামবাসীর স্বাক্ষরসহ একটি আবেদন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠিয়েছিলাম। এখন পর্যন্ত এর কোনো সুরাহা হয়নি। একই নাম থাকায় খুবই সমস্যা হচ্ছে।

বারবার বোঝাতে হয়

প্রতিমাবংকী উত্তরপাড়া-২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা বিল্লাল হোসেন বলেন, একই নামে দুটি বিদ্যালয় থাকায় বিশেষ করে শিক্ষা কর্মকর্তা ও সরকারি কর্মকর্তারা বিভিন্ন সময় বিভ্রান্তিতে পড়েন। কোনো কাজে বিদ্যালয়ের নাম বললে কোন বিদ্যালয়ের কথা বলা হচ্ছে, তা আলাদাভাবে পরিষ্কার করতে হয়।

দুটি বিদ্যালয়ের একই নাম থাকা নিয়ে মজা করে শিক্ষার্থীরাও। প্রতিমাবংকী উত্তরপাড়া-১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার প্রথম আলোকে বলেছে, ‘আমার বাড়ি থেকে দুই বিদ্যালয়ের দূরত্ব একই। রাস্তা ভালো থাকায় আমি উত্তরপাড়া-১ বিদ্যালয়েই পড়ি। পাশের বাড়ির আমার এক চাচাতো ভাই জুনায়েদ পড়ে উত্তরপাড়া-২ বিদ্যালয়ে। আমি ওকে মজা করে বলি, আমি এক নম্বর আর তুই তো ২ নম্বর।’

নামের কারণে কী সমস্যা হয়, সে কথার বলতে গিয়ে প্রতিমাবংকী উত্তরপাড়া-২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ফয়সাল আহমেদ বলেছে, ‘কেউ যদি প্রশ্ন করে বিদ্যালয়ের নাম কী? আমি বলি, উত্তরপাড়া ২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। তখন আমাকে বলে, দুই কেন? বারবার বোঝাতে হয়।’