
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে এক যুবকের মৃত্যুর কারণ নিয়ে দেখা দিয়েছে বিতর্ক। পরিবারের দাবি, মারধরের কারণে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃত্যুসনদে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ডেঙ্গু, কার্ডিওজেনিক শক (হৃদ্যন্ত্রজনিত শক) ও রক্তে সংক্রমণ।
এ অভিযোগে গতকাল বৃহস্পতিবার গোদাগাড়ী আমলি আদালতে মামলার আবেদন করেন ওই ব্যক্তির বাবা।
নিহত শাওন আলী (২৫) উপজেলার সুরসুনিপাড়া গ্রামের মোজাফফর আলী মামলার ছেলে এবং পেশায় নির্মাণশ্রমিক ছিলেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী আবদুল হামিদ প্রথম আলোকে বলেন, মারধরের ঘটনায় আগে থানায় কোনো মামলা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে প্রতিবেদন চেয়েছেন আদালত। পুলিশের প্রতিবেদন পাওয়ার পর ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে আদালত আদেশ দেবেন।
মামলায় প্রতিবেশী মো. রানা (২৫), তাঁর বাবা মহবুল ইসলাম (৪২) ও মা রিনা বেগমকে (৩৫) বিবাদী করা হয়েছে।
শাওন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত সোমবার দুপুরে মারা যান। তাঁর মৃত্যুর পর স্বজনেরা মরদেহের ময়নাতদন্তের দাবি জানিয়ে গোদাগাড়ী থানায় যোগাযোগ করেন। ওসি তাঁদের জানান, মৃত্যুসনদে ডেঙ্গুকে মৃত্যুর কারণ উল্লেখ থাকায় এ বিষয়ে পুলিশের কিছু করার নেই। এ কারণে ময়নাতদন্ত ছাড়াই প্রায় ২২ ঘণ্টা পর গত মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মরদেহ দাফন করা হয়।
পরিবার ও স্থানীয় লোকজনের দাবি, প্রতিপক্ষের মারধরের কারণেই শাওনের মৃত্যু হয়েছে।
মারধরের ঘটনায় ২ জুলাই গোদাগাড়ী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন শাওনের স্ত্রী আদরী বেগম। তবে সেটিকে মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়নি। তিনি সেখানে উল্লেখ করেন, পাওনা টাকা চাইতে গেলে গত ৩০ জুন আদরীকে মারধর করেন প্রতিবেশী রানা, তাঁর বাবা মহবুল ইসলাম ও মা রিনা বেগম। পরদিন রিনা বেগমের ছাগল তাঁদের গাছ খাচ্ছিল। ছাগল বেঁধে রাখার কথা বললে তাঁকে আবার মারধর করা হয়। স্ত্রীকে রক্ষা করতে গেলে শাওনও মারধরের শিকার হন।
পরে শাওনকে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুই দিন পর বাড়ি ফিরলেও তিনি সুস্থ হননি। ১৭ জুলাই প্রচণ্ড জ্বর নিয়ে আবার হাসপাতালে ভর্তি করা হলে পরে তাঁর ডেঙ্গু শনাক্ত হয়।
আদালতে মামলার আবেদনে মোজাফফর আলী অভিযোগ করেন, পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে প্রধান আসামি রানা তাঁর ছেলেকে কিল, ঘুষি ও লাথি মারেন। ওই হামলার আঘাতেই তাঁর ছেলের মৃত্যু হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, শরীরে আঘাতের চিহ্ন ও প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়ার পরও মৃত্যুর কারণ হিসেবে ডেঙ্গু উল্লেখ করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের অনুরোধ করা হলেও পুলিশ তা না করে মরদেহ দাফনে বাধ্য করেছে।
শাওনের স্ত্রী আদরী বেগম বলেন, তাঁর স্বামীকে লাঠি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়েছিল। প্রথমবার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর নানা সমস্যার কারণে তাঁরা বাড়ি ফিরে আসেন। এরপর শাওন আর বিছানা থেকে উঠতে পারেননি। পরে জ্বর নিয়ে আবার হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তাঁর ডেঙ্গু শনাক্ত হয়।
অভিযোগের প্রসঙ্গে গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, মারধরের ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছিল পুলিশ। পরে দুই পক্ষ আপস-মীমাংসা করেছে বলে একটি সমঝোতার কপি থানায় জমা দেওয়া হয়। এ কারণে অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়নি।