নাটোরের গুরুদাসপুরে নদীতে ডুবে মারা যাওয়া দুই শিশুর জানাজার সময় সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন পুলিশের দুই সদস্য। এতে আহত এক উপপরিদর্শক (এসআই) ও এক কনস্টেবলকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার রাতে উপজেলার শ্যামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ওই দুই পুলিশ সদস্য হলেন গুরুদাসপুর থানার এসআই আবুল বাশার ও কনস্টেবল রাকিব হোসেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে গুরুদাসপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রিয়াজুল হাসান বলেন, ঘটনাটি জানার পর পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে আহত দুই পুলিশ সদস্যকে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল বেলা আড়াইটার দিকে শ্যামপুর গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে ফারহান হোসেন (৯) ও বাবলু হোসেনের ছেলে লাম হোসেন (৯) বন্ধুদের সঙ্গে নন্দকূজা নদীতে গোসল করতে নামে। এ সময় প্রবল স্রোতে তারা পানিতে তলিয়ে যায়। পরে স্থানীয় এক জেলে তাদের মরদেহ উদ্ধার করেন।
আত্মরক্ষার জন্য দুই পুলিশ সদস্য স্থানীয় একটি দোকানে আশ্রয় নেন। খবর পেয়ে থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে।
গতকাল রাতে দুই শিশুর জানাজার সময় গুরুদাসপুর থানার এসআই আবুল বাশার ও কনস্টেবল রাকিব হোসেন সেখানে যান। তাঁরা দুই শিশুর কাফনের কাপড় সরিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির উদ্যোগ নেন। এতে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে তাঁদের প্রথমে তর্কাতর্কি এবং পরে ধাক্কাধাক্কি হয়। একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা মারধরের শিকার হন।
আত্মরক্ষার জন্য দুই পুলিশ সদস্য স্থানীয় একটি দোকানে আশ্রয় নেন। খবর পেয়ে থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে। পরে আহত দুই পুলিশ সদস্য গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
এদিকে গ্রেপ্তারের আতঙ্কে স্থানীয় কয়েকজন দ্রুত জানাজার নামাজ শেষ করে সেখান থেকে চলে যান বলে জানিয়েছেন একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা।
নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক বলেন, খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুই পুলিশ সদস্যের তদন্তে ত্রুটি ছিল। তাই তাঁদের পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।