
ফেনীর ছাগলনাইয়ায় একটি বালুমহালে সংবাদ সংগ্রহে যাওয়া বেসরকারি টেলিভিশন মোহনা টিভির এক সাংবাদিককে মারধরের পর নদীতে ফেলে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। হামলার শিকার ওই সাংবাদিক হলেন এম নিজাম উদ্দিন মজুমদার। হামলায় শরীরের একাধিক স্থানের আঘাত পেয়েছেন তিনি। এ ঘটনার দুজনের নাম উল্লেখ করে ও পাঁচ থেকে ছয়জনকে আসামি করে মামলা করেছেন নিজাম উদ্দিন। মামলার এজাহারে হামলার জন্য অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের দায়ী করেছেন তিনি। এ ঘটনায় গতকাল শুক্রবার মামলার দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে ছাগলনাইয়া উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের জগন্নাথ সোনাপুর এলাকায় ফেনী নদীর তীরসংলগ্ন অবৈধ বালুমহাল নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে যান মোহনা টেলিভিশনের প্রতিনিধি এম নিজাম উদ্দিন মজুমদার। ঘটনাস্থলে গিয়ে ছবি ও ভিডিও ধারণ করার সময় হঠাৎ হেলমেট পরা কয়েকজন লোক অতর্কিতে তাঁর ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাঁকে মারধর করে নদীতে ফেলে দেয়। পাশাপাশি আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে গুলি করে হত্যারও হুমকি দেয়। পরে তিনি সাঁতরে তীরে উঠলে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। ইট ও কাঠের টুকরার আঘাতে মাথা, মুখমণ্ডল, চোখ ও পায়ে আঘাত পেয়েছেন তিনি।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতেই ছাগলনাইয়া থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা করেন নিজাম উদ্দিন মজুমদার। মামলায় দুজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা পাঁচ-ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে। জানতে চাইলে ছাগলনাইয়া ওসি আবু তাহের জানান, মামলা পরপরই শুক্রবার অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ইউসুফ হোসেনসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বলেন, মূল আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে এবং তাঁদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনায় ফেনীর কর্মরত সাংবাদিকের আজ শনিবার শহরের প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। ফেনী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহেরের সভাপতিত্বে ও সাপ্তাহিক স্বদেশপত্র পত্রিকার সম্পাদক এন এন জীবনের সঞ্চালনায় মানববন্ধন ও সমাবেশে বক্তব্য দেন সাংবাদিক মুহাম্মদ আবু তাহের ভূঁইয়া, রবিউল হক, মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন, কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া, এম এ সাঈদ খান, জসিম মাহমুদ, আতিয়ার হওলাদার প্রমুখ।
বক্তারা সাংবাদিক এম নিজাম উদ্দিন মজুমদারের ওপর সংঘটিত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তাঁরা অভিযোগ করেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে নিজাম উদ্দিন ঘটনাস্থলে গেলে তাঁকে বেধড়ক মারধর করার পর গুলি করে হত্যার চেষ্টা করা হয়। এরপর তাঁকে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। অবৈধ বালুমহালের দুর্বৃত্তদের এমন আচরণ স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ। হামলার সঙ্গে জড়িত আসামি ও হামলার নেপথ্যের নির্দেশদাতাদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান বক্তারা।
ফেনীর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (ছাগলনাইয়া সার্কেল) মো. ইমতিয়াজ আহম্মেদ বলেন, পুলিশ ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে এবং জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে।