ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ঈদের নামাজের পর পরই দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। হামিরদী ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামে
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ঈদের নামাজের পর পরই দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। হামিরদী ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামে

ঈদের নামাজ পড়েই দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ১২টি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট

এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মধ্যরাতে টর্চলাইট জ্বালিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষের এক দিন পরই দুই পক্ষ পুনরায় সংঘর্ষে জড়িয়েছে। আজ শনিবার সকাল ৯টার দিকে ঈদের নামাজ আদায় শেষেই হামিরদী ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামের পক্ষ দুটি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। দুই ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ১০-১২টি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট হয়েছে।

একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে জানা যায়, দুই পক্ষের লোকজন ঢাল, সড়কি, রামদা, ইটপাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হন। সংঘর্ষে ১০-১২টি বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ সময় কয়েকজন আহত হন। পরে ভাঙ্গা থানার পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়। কয়েকটি বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শনিবার বিকেল পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় কোনো অভিযোগ দেয়নি।

ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত মেডিকেল কর্মকর্তা পলাশ সাহা জানান, সংঘর্ষে আহত ১১ জন এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসেন। এর মধ্যে ওহিদুর রহমান (৩৮) নামে এক ব্যক্তির অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। দুই জন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ফিরে গেছেন। বাকি ৮ জনকে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, হামিরদী ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুটি পক্ষ রয়েছে। এক পক্ষের নেতৃত্ব দেন গোপীনাথপুর গ্রামের ইসমাইল মুন্সী (৬৫) ও অপর পক্ষের নেতৃত্ব দেন একই গ্রামের কামরুল মিয়া (৪৫)।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাত নয়টার দিকে গ্রামের একটি চায়ের দোকানে কামরুল মিয়ার সঙ্গে ইসমাইল মুন্সীর ছেলে ফুয়াদ হোসেনের কথা-কাটাকাটি ও একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এরপর গ্রামের দুই পক্ষই ঢাল, সড়কি, রামদা ও ইটপাটকেল নিয়ে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে দিকে টর্চলাইট জ্বালিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়।