জোনায়েদ হোসেন
জোনায়েদ হোসেন

নওগাঁয় হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে পড়ে ছিল রাজস্ব কর্মকর্তার লাশ

নওগাঁয় জোনায়েদ হোসেন (৩৭) নামের এক রাজস্ব কর্মকর্তার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বুধবার ভোর ৫টার দিকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে তাঁর লাশ ফেলে রেখে যায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা।

জোনায়েদ হোসেন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) পদে ঢাকা কাস্টম হাউসে কর্মরত ছিলেন। তাঁর বাড়ি পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি এলাকায়। তাঁর স্ত্রী নাঈমা নার্গিস নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর সরকারি কলেজে প্রভাষক। তাঁদের দুই বছর বয়সী একটি মেয়ে আছে।  

নওগাঁ জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ভোর ৫টার দিকে একটি পিকআপে করে জরুরি বিভাগের সামনে আসেন কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি। জোনায়েদের নিথর দেহ সেখানে ফেলে তাঁরা দ্রুত সটকে পড়েন। বিষয়টি জানাজানির পর তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালটির জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ওয়ার্ড মাস্টার কবির হোসেন বলেন, ‘জরুরি বিভাগের এক ট্রলিম্যান আমাকে খবর দিলে আমি তাঁর সহযোগিতায় অচেতন অবস্থায় ওই ব্যক্তিকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাই। সেখানে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।’

নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) আবু জার গাফফার বলেন, বেওয়ারিশ অবস্থায় পাওয়া মরদেহটির বুক ও দুই পায়ের হাড়ের বিভিন্ন স্থান ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সড়ক দুর্ঘটনায় ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত করে বলা যাবে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, স্ত্রী-সন্তানের সঙ্গে দেখা করার জন্য নওগাঁর মহাদেবপুরে আসছিলেন জোনায়েদ। গতকাল মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে তিনি বগুড়ার সান্তাহার রেলওয়ে স্টেশনে নামেন। ওই সময় স্ত্রীর সঙ্গে সর্বশেষ কথা হয়। এরপর বারবার মুঠোফোনে বারবার কল দিলেও রিসিভ করা হচ্ছিল না। ভোরে রিসিভ করা হলে নওগাঁ সদর থানা-পুলিশের সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর কথা হয় এবং তখন মৃত্যুর বিষয়টি জানতে পারেন।

এ বিষয়ে নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিয়ামুল ইসলাম বলেন, ওই রাজস্ব কর্মকর্তা দুর্ঘটনা নাকি ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে মারা গেছেন—এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।