খাল খনন কর্মসূচি শেষে জনসভায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ সোমবার দুপুরে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুর এলাকায়
খাল খনন কর্মসূচি শেষে জনসভায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ সোমবার দুপুরে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুর এলাকায়

খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন

দেশের মানুষই সুন্দর আগামী গড়ে তুলবে, প্রয়োজন শুধু পরিকল্পনা: প্রধানমন্ত্রী

উন্নত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পৃথিবীর অন্য দেশগুলো সুন্দর। জিন-ভূত নয়—মানুষই সেই সব দেশ সুন্দর করেছে। এ দেশের মানুষ একাত্তর সালে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিল, ২০২৪–এর আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচার বিদায় করেছে। এই দেশের মানুষই সুন্দর আগামী গড়ে তুলবে, প্রয়োজন শুধু পরিকল্পনা, যারা মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে দেশে বিশৃঙ্খলা করতে চায়, তাদের থেকে সজাগ থাকতে হবে।

আজ সোমবার দুপুরে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুর গ্রামে সাহাপাড়া খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন শেষে সমাবেশে এ কথাগুলো বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন।

দেশে খাল খননের গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের অধিকাংশ খাল ভরাট হয়ে গেছে, ফলে পানির অভাবে চাষাবাদ করা যায় না। আমরা বর্ষার পানিকে কৃষিকাজে ব্যবহার করতে চাই, তখন যা পাওয়া যাবে, সেটাকে ধরে রাখতে চাই। এতে কৃষকেরা উপকৃত হন। আগামী ৫ বছরে দেশের ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করব। যেটা আজ সাহাপাড়া থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো।’

সাহাপাড়া খালটির দৈর্ঘ্য ১২ কিলোমিটার। তারেক রহমান বলেন, সম্পূর্ণভাবে এটির খননকাজ শেষ হলে ৩১ হাজার কৃষক সেখান থেকে পানি নিয়ে প্রায় ১২ শ হেক্টর জমি সেচসুবিধার আওতায় আনতে পারবে। সাড়ে তিন লাখ মানুষ এই খালের পানির সুবিধা পাবে। শুধু তা–ই নয়, কৃষকেরা প্রায় ৬০ হাজার টন বেশি ফসল উৎপাদন করতে পারবে।

প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য, ‘২০ কোটি মানুষের বসবাস এই দেশে। এত মানুষের জন্য খাবারদাবার বিদেশ থেকে কি আনা সম্ভব? এই খাবার আমাদের দেশেই উৎপাদন করতে হবে। বিশেষ করে ধান-চালসহ মৌলিক খাবারগুলো এই দেশে উৎপাদন করতে হবে। শুধু খাল নয়, খালের দুই পাশে ৬০ হাজার বৃক্ষরোপণ করা হবে। খালের দুই পাশে চলাচলের জন্য রাস্তা করে দেওয়া হবে।’

ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমানোর তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খালে পানি না থাকায় আমাদের গভীর নলকূপের মাধ্যমে মাটির নিচ থেকে পানি তুলতে হয়। ১০ বছর আগে যতটুকু গভীরতায় পানি মিলত, তবে এখন আরও বেশি গভীরতায় পানি পেতে হয়। এভাবে ভূগর্ভস্থ পানি কমে গেলে বিপদে পড়তে হবে। এ জন্য মাটির ওপরের পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। খাল-নদী খনন করে সেই পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।’

শিগগিরই সব পরিবারের মধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে ৩৭ হাজার মা-বোনের কাছে এটি পৌঁছে দিয়েছি। অল্প সময়ের মধ্যে রংপুর অঞ্চলের সবার কাছে এটি পৌঁছে দেওয়া হবে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার কারণে স্বাভাবিকভাবেই দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব পড়েছে। তারপর আমরা যে ওয়াদা করেছিলাম, সেই কাজগুলো শুরু করেছি। কৃষক ভাইদের জন্য যেভাবে সুদ মওকুফ করেছি, মা-বোনদের ফ্যামিলি কার্ড দিয়েছি, একইভাবে কৃষক ভাইদের কৃষি কার্ড পৌঁছে দেব, যা আগামী মাস থেকে চালু হবে।’

উত্তরাঞ্চলে কৃষিভিত্তিক শিল্পকারখানা গড়ে তোলার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘উত্তরাঞ্চল কৃষিপ্রধান এলাকা। দেশের অনেক বড় কোম্পানি কৃষি দ্রব্য নিয়ে মিলকারখানা করেছে। এই এলাকায় কৃষিনির্ভর মিলকারখানা গড়ে তুলোর কাজ চলছে, যাতে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়।’

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়কমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ত্রাণ ও দুর্যোগমন্ত্রী আসাদুল হাবীব, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, জাতীয় সংসদের হুইপ আখতারুজ্জামান মিয়া ও দিনাজপুরের তিনটি আসনের সংসদ সদস্যরা। সমাবেশে সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন জেলার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ।

প্রধানমন্ত্রী আজ দিনাজপুর শহরে ফরিদপুর কবরস্থানে নানা-নানিসহ আত্মীয়দের কবর জিয়ারত করবেন। পরে বিকেলে শহরের গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানে দিনাজপুরের সুধী সমাবেশ ও ইফতার এবং দোয়া মাহফিলে অংশ নেবেন। সন্ধ্যা পৌনে সাতটায় দিনাজপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন।