জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ ফরিদুল আলম ও এলডিপির প্রার্থী এম এয়াকুব আলী
জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ ফরিদুল আলম ও এলডিপির প্রার্থী এম এয়াকুব আলী

চট্টগ্রাম-১২ আসন

প্রথমে সরলেন জামায়াত প্রার্থী, এবার এলডিপির, জোটের প্রার্থী কে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছিলেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রার্থী এম এয়াকুব আলী। তবে এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ছিলেন মোহাম্মদ ফরিদুল আলম। ২৪ জানুয়ারি এলডিপিকে সমর্থন দিয়ে সরে দাঁড়িয়েছেন ফরিদুল আলম। আজ বৃহস্পতিবার ফরিদুল আলমকে সমর্থন দিয়ে সরে দাঁড়ালেন এয়াকুব আলী। ফলে ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী কে—তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন এয়াকুব আলী। চট্টগ্রাম নগরের নাসিরাবাদ এলাকায় এয়াকুব ট্রেড সেন্টারে এলডিপির চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। এতে তিনি বলেন, মনোনয়ন জটিলতায় দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার কারণে প্রতীক পেতে দেরি হয়েছে। তাই নির্ধারিত সময়ে প্রচার শুরু করা যায়নি। এতে গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট হয়েছে এবং স্বল্প সময়ে সব নির্বাচনী কার্যক্রম সম্পন্ন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

এয়াকুব আলী বলেন, এ ছাড়া ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণ বিবেচনায় আমি এ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। একই সঙ্গে ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোটের অন্যতম প্রধান শরিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ ফরিদুল আলমের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ঘোষণা করছি।

জামায়াত ও এলডিপির সূত্র জানায়, শুরুতে এলডিপিকে আসনটি ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল সমঝোতা অনুযায়ী। তবে যাচাই-বাছাইয়ে ঋণখেলাপির অভিযোগে রিটার্নিং কর্মকর্তা এম এয়াকুব আলীর মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করেন। পরে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেও তিনি প্রার্থিতা ফিরে পাননি। ২১ জানুয়ারি তাঁকে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। এর পরদিন উচ্চ আদালতে রিটে তিনি প্রার্থিতা ফিরে পান।

এয়াকুব আলী প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার পর ২৪ জানুয়ারি রাতে তাঁকে সমর্থন দিয়ে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ ফরিদুল আলম। এদিন জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত এক সভায় এ ঘোষণা দেওয়া হয়। মোহাম্মদ ফরিদুল আলমের পক্ষে এ ঘোষণা দেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির আনোয়ারুল আলম চৌধুরী।

চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে চট্টগ্রাম-১২ ও চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসন দুটি এলডিপিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। চট্টগ্রাম-১৪ আসনে জামায়াত শুরুতে মনোনয়ন দিয়েছিল শাহাদাৎ হোসেনকে। তবে তিনি মনোনয়নপত্র নিলেও জমা দেননি। চট্টগ্রাম-১২ আসনে এলডিপি ও জামায়াতের দুজন প্রার্থীই প্রতীক পেয়েছেন। প্রচারণা শুরুতে জামায়াত প্রার্থী ও আজ এলডিপির প্রার্থী প্রচারণা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে এলডিপির প্রার্থী ও দক্ষিণ জেলা এলডিপির সভাপতি এম এয়াকুব আলীর মুঠোফোনে কয়েক দফা চেষ্টা করা হলেও তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের নির্দিষ্ট সময়সীমা পার হয়ে গেলে আইনিভাবে নির্বাচন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে দাঁড়ানোর আর কোনো সুযোগ নেই। অর্থাৎ চট্টগ্রাম-৮ আসনে ভোটের ব্যালটে এলডিপি ও জামায়াত—দুই দলের প্রতীক থাকবে। জামায়াতের দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা ও এলডিপির দলীয় প্রতীক ছাতা।

জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান প্রথম আলোকে বলেন, ‘এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদের সঙ্গে সকালেও আমার কথা হয়েছে। আমরা তাঁকে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম-১২ আসনে ঐক্যের প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণায় সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব। কিন্তু এখন এমন সিদ্ধান্ত কেন—এটি স্পষ্ট নয়।’

চট্টগ্রাম-১২ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৫২ হাজার ৬৯৫ জন। আসনের অন্যান্য প্রার্থীরা হলেন বিএনপির মোহাম্মদ এনামুল হক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এস এম বেলাল নূর, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের সৈয়দ এয়ার মোহাম্মদ পেয়ারু, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মোহাম্মদ আবু তালেব হেলালী, জাতীয় পার্টির ফরিদ আহমদ চৌধুরী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ শাখাওয়াত হোসাইন।