মোবারক হোসেন ওরফে ইমন
মোবারক হোসেন ওরফে ইমন

‘৫০ হাজার পুলিশ নিয়ে থাকলেও ঘরে গিয়ে তোকে মেরে ফেলব’

‘৫০ হাজার পুলিশ নিয়ে থাকলেও ঘরে গিয়ে মেরে ফেলব। তোর ভাইকে যেমন ১০ হাজার মানুষের মাঝখানে গুলি করে মেরেছি।’—চট্টগ্রামে এভাবেই আজিজ উদ্দিন নামের এক ব্যক্তিকে মুঠোফোনে হুমকি দেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে হুমকির এই অডিও। আজিজের দাবি, হুমকি দেওয়া ব্যক্তি চট্টগ্রামের ‘সন্ত্রাসী’ মোবারক হোসেন ওরফে ইমন।

মোবারক চট্টগ্রামের আলোচিত ‘সন্ত্রাসী’ সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদের ডান হাত হিসেবে পরিচিত। চট্টগ্রামে খুন, চাঁদাবাজি ও প্রকাশ্যে অস্ত্রবাজির ঘটনায় ঘুরেফিরে তাঁর নাম আসছে। কিন্তু পুলিশ তাকে খুঁজে পাচ্ছে না।

হুমকি পাওয়া আজিজ উদ্দিন নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানা শ্রমিক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। চট্টগ্রামে বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণায় গুলিতে নিহত ‘সন্ত্রাসী’ সরোয়ার হোসেন ওরফে বাবলার ছোট ভাই তিনি। গত রোববার তাঁর হোয়াটসঅ্যাপে হুমকির এই অডিও পাঠানো হয় বলে তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিওটি ২ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের। অডিওতে শুরুতেই চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় অশ্লীলভাবে আজিজকে গালাগাল করতে শোনা যায়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিওটি ২ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের। অডিওতে শুরুতেই চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় অশ্লীলভাবে আজিজকে গালাগাল করতে শোনা যায়। আজিজের উদ্দেশে বলা হয়, ‘কয় দিন ঘরে বসে থাকবি, প্রশাসন কয় দিন পাহারা দেবে। প্রশাসন থেকেই–বা কী হবে, তোর ভাইকে ১০ হাজার মানুষের মধ্যে মেরেছি। ৫০ হাজার পুলিশ নিয়ে থাকলেও ঘরে গিয়ে তোকে মেরে ফেলব। তোকে মারতে আমি যাব। তোর ভাইকে মানুষ দিয়ে মাথায় গুলি করে মেরেছি। তোকে গুলি করে পুরো শরীর বোলতার বাসা বানিয়ে ফেলব।’ আজিজকে হত্যার হুমকি দিয়ে আরও বলা হয়, ‘তোকে মারলে কী হবে। ১টি খুন করলে যে সাজা, ১০টি খুন করলেও সেই সাজা।’

গত বছরের ৫ নভেম্বর নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার খন্দকারপাড়া এলাকায় বিএনপির প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর গণসংযোগে গুলি করে সন্ত্রাসীরা। এতে ঘটনাস্থলে নিহত হন সরোয়ার হোসেন ওরফে বাবলা। তিনি অন্তত ১৫টি মামলার আসামি। ওই দিন গুলিতে বিএনপিপ্রার্থী এরশাদ উল্লাহসহ আরও চারজন আহত হন। এ ঘটনায় করা মামলায় পুলিশ ১৫ জন আসামি গ্রেপ্তার করলেও এখনো চিহ্নিত করতে পারেনি সরোয়ারকে কে গুলি করেছে। তবে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে, বাঁহাতি কোনো শুটার সরোয়ারকে খুন করেছে।

আমার ভাই সরোয়ারকে গুলি করে মারার পর থেকে আমাকে প্রায়ই হুমকি দিয়ে আসছে সন্ত্রাসীরা। সর্বশেষ গত রোববার আমাকে হুমকি দেওয়া হয়। আমি নিরাপত্তাহীনতায় আছি।
আজিজ উদ্দিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বায়েজিদ বোস্তামী থানা শ্রমিক দল

জানতে চাইলে আজিজ উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার ভাই সরোয়ারকে গুলি করে মারার পর থেকে আমাকে প্রায়ই হুমকি দিয়ে আসছে সন্ত্রাসীরা। সর্বশেষ গত রোববার আমাকে হুমকি দেওয়া হয়। আমি নিরাপত্তাহীনতায় আছি।’ হুমকির বিষয়টি মৌখিকভাবে বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং নগর পুলিশের কমিশনারকে অবহিত করেছেন বলে জানান তিনি।

মোবারক পলাতক থাকায় ছড়িয়ে পড়া অডিওর বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসি জাহিদুল কবির প্রথম আলোকে বলেন, ‘সন্ত্রাসী মোবারককে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিদেশি নম্বরের হোয়াটসঅ্যাপ থেকে তিনি হুমকি দেওয়াসহ নানা অপরাধ করে আসছেন।’

কে এই মোবারক

ফটিকছড়ির কাঞ্চনগরের মো. মুসার ছেলে মোবারক। চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া এক্সেস রোডে জোড়া খুন, পতেঙ্গায় ঢাকাইয়া আকবর হত্যা মামলাসহ সাত মামলার আসামি তিনি। পুলিশ বলছে, অস্ত্র পরিচালনায় বেশ পারদর্শী মোবারক। তাঁর ১৫-২০টি অস্ত্র বহনের ছবি পুলিশের কাছে রয়েছে। জোড়া খুনের ঘটনায় সন্ত্রাসী ও মোটরসাইকেল ভাড়া করে এনেছিলেন তিনিই। মোবারক সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদের অনুসারী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন।

ছোট সাজ্জাদ চট্টগ্রামের বহুল আলোচিত আট ছাত্রলীগ নেতা খুনের মামলায় অভিযুক্ত (পরে খালাসপ্রাপ্ত), বর্তমানে বিদেশে পলাতক ‘শিবির ক্যাডার’ সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজিসহ ১৭টি মামলা রয়েছে। বড় সাজ্জাদের হয়ে নগরের বায়েজিদ বোস্তামী, পাঁচলাইশ, চান্দগাঁও ও হাটহাজারীতে আধিপত্য বজায় রাখতে অপরাধ সংঘটিত করতেন ছোট সাজ্জাদ। গত বছরের ১৫ মার্চ ঢাকায় গ্রেপ্তার হন তিনি। কিন্তু থেমে নেই তাঁর বাহিনী। বাহিনীর নেতৃত্বে রয়েছেন মোবারক ও মোহাম্মদ রায়হান। পুলিশ এই দুজনকে এখনো ধরতে পারছেন না।