চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন
চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন

চট্টগ্রাম বন্দরে ধর্মঘট প্রত্যাহারের পরদিন আন্দোলনের সমন্বয়ক আটক

চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকনকে আটক করেছে পুলিশ। আজ সোমবার সন্ধ্যায় বন্দর এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়।

বন্দরে লাগাতার ধর্মঘট কর্মসূচি স্থগিত করার পরই তাঁকে আটক করা হলো। ইব্রাহিম খোকন বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলেরও সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ রাতে প্রথম আলোকে বলেন, র‌্যাবের একটি দল ইব্রাহিম খোকনকে আটক করে বন্দর থানায় দিয়েছে। যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নিচ্ছে পুলিশ।

বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকনকে চট্টগ্রাম বন্দর এলাকা থেকে আটক করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে চট্টগ্রাম শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)।

বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল ইজারা না দেওয়াসহ চার দফা দাবিতে আন্দোলন করে আসছিলেন বন্দরের কর্মচারীরা। এই আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন দুজন। ইব্রাহিম খোকন ছাড়াও হুমায়ুন কবিরও এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন। শুরুতে বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের ব্যানারে আন্দোলন করলেও পরে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে কঠোর আন্দোলন শুরু করেন তাঁরা।

৩১ জানুয়ারি থেকে প্রথমে তিন দিন আট ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করে সংগঠনটি। পরে গত মঙ্গলবার লাগাতার কর্মসূচি শুরু হয়। বৃহস্পতিবার নৌপরিবহন উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের পর দুই দিনের জন্য কর্মসূচি স্থগিত করা হলেও আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার অভিযোগ তুলে রোববার থেকে ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছিল। পরে আজ সোমবার সকাল আটটা থেকে ধর্মঘটও প্রত্যাহার করা হয়েছে।

স্কপের প্রতিবাদ

ইব্রাহিম খোকনকে আটকের প্রতিবাদ জানিয়েছে চট্টগ্রাম শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ। বিবৃতিতে নেতারা বলেন, প্রশাসন শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ পরিহার করে বারবার শ্রমিকদের সাংঘর্ষিক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। গতকাল বন্দরের পাঁচজন শ্রমিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে আর আজ আবার ইব্রাহিম খোকনকে আটক করে প্রশাসন পরিকল্পিতভাবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার উসকানিতে লিপ্ত হয়েছে।

নেতারা আরও বলেন, গতকাল গভীর রাতে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট কর্মসূচি প্রত্যাহারের পর যখন বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক ও স্থিতিশীলভাবে চলছিল, ঠিক তখনই প্রশাসনের এমন রহস্যজনক ও নেতিবাচক পদক্ষেপ গভীর সন্দেহের জন্ম দেয়। এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে একটি মহল ইচ্ছাকৃতভাবে বন্দর পরিস্থিতি অশান্ত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।

বিবৃতিদাতারা হলেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সভাপতি এ এম নাজিম উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, শ্রম সংস্কার কমিশনের সদস্য ও টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত, স্কপ চট্টগ্রাম জেলার সমন্বয়ক এস কে খোদা তোতন ও ইফতেখার কামাল খান, ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের সভাপতি খোরশেদুল আলম, বিএফটিইউসির সভাপতি কাজী আনোয়ারুল হক, বিএলএফের সভাপতি নুরুল আবসার তৌহিদ, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের নেতা হেলাল উদ্দিন ও বাংলাদেশ জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক জাহেদ উদ্দিন।