ভাঙা সড়কে নাকাল নারায়ণগঞ্জ নগরবাসী

প্রায় এক কিলোমিটার বেহাল সড়কের কারণে প্রতিদিন যানজটে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে হাজার হাজার নগরবাসীকে।

  • অনেক দিন ধরে সড়কটির বিভিন্ন অংশ ভাঙা। অসংখ্য গর্ত তৈরি হয়েছে।

  • ছোট গাড়ি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা গর্তে প্রায়ই উল্টে যাচ্ছে।

পিচঢালাই ভেঙে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়ে থাকা সড়কে জমে আছে বৃষ্টির পানি। চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের। গত শনিবার বিকেলে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের আর্মি মার্কেটের সামনে

নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া থেকে চানমারী জেলা প্রশাসকের কার্যালয় পর্যন্ত পুরোনো চার লেনের প্রায় এক কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ, পাথর ও ইটের খোয়া উঠে গেছে। সড়কটি ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের অংশ, যা ছয় লেনে উন্নীত করার কাজ চলছে। তবে জমি অধিগ্রহণ নিয়ে জটিলতার কারণে চাষাঢ়া থেকে চানমারী পর্যন্ত কাজ বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে সেখানে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। সেই ভাঙা গর্তে চাকা আটকে প্রায়ই দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে বিভিন্ন যানবাহন। গর্তের কারণে ধীরগতিতে গাড়ি চলাচল করতে গিয়ে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। প্রায় এক কিলোমিটার বেহাল সড়কের কারণে প্রতিদিন যানজটে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে হাজার হাজার নগরবাসীকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ৩৬৪ কোটি ব্যয়ে চার লেনের ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডটি ছয় লেনে উন্নীতকরণ কাজ শুরু করেছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর। সাইনবোর্ড থেকে চানমারী পর্যন্ত ছয় লেনের কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। দুই দফা প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে ৪৪৯ কোটি ৫৮ লাখ টাকা হয়েছে এবং মেয়াদ বাড়িয়েও চলতি বছরের ৩০ জুন প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রকল্পের ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে জমি নিয়ে জটিলতার কারণে চাষাঢ়া থেকে চানমারী পর্যন্ত চার লেনের পুরোনো সড়ক রয়ে গেছে। সেই পুরোনো সড়ক বিভিন্ন স্থানে ভেঙে অসংখ্য বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে প্রতিনিয়ত সড়কের ভাঙা ওই অংশ দিয়ে যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজটের।

গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে ঘুরে এই সড়কে মানুষের ভোগান্তির চিত্র দেখা যায়। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন তিন-চারবার চলাচল করেন বন্ধন পরিবহনের বাসচালক দিলদার হোসেন। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, সড়ক মসৃণ থাকলে দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানো যায়। কিন্তু সড়কে গর্ত থাকলে বাধ্য হয়ে ধীরগতিতে গাড়ি চালাতে হয়। এ কারণে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

চাষাঢ়া ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক ইমরান হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, অনেক দিন ধরে সড়কটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেছে। সড়কে অসংখ্য গর্ত তৈরি হয়েছে। গর্তে প্রায়ই গাড়ি আটকে যাচ্ছে, বিকল হয়ে পড়ছে। এতে পুরো শহর যানজট ছড়িয়ে পড়ছে। একবার গাড়ি খাদে পড়ে গেলে সেই গাড়ি তুলতে অনেক সময় লেগে যায়। ভাঙা রাস্তায় বৃষ্টির পানি জমে গেলে সমস্যা আরও বেশি হয়। সওজ অধিদপ্তরকে জানিয়েও কোনো কাজ হয়নি। পরিদর্শক ইমরান হোসেন বলেন, ‘উনারাও (সওজের কর্মকর্তা) তো চলাচল করেন, রাস্তার কী অবস্থা, তাঁরাও তো দেখছেন। রাস্তা মেরামতের বিষয়ে তাঁদের তো দায়দায়িত্ব রয়েছে।’

মোটরসাইকেলচালক আশরাফুল ইসলাম বলেন, সড়কের বিভিন্ন স্থানে অনেক বড় বড় গর্ত। এত গর্ত ঠেলে গাড়ি চালানো খুবই কষ্টকর। অনেক দিন ধরে সড়কটি ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কিন্তু মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেই।

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালক ইন্না মিয়া বলেন, ছোট গাড়ি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা গর্তে প্রায়ই উল্টে যাচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার তাঁর গাড়ি উল্টে চার যাত্রী আহত হয়েছেন। তাঁর গাড়ির চাকা বাঁকা হয়ে গেছে। রাতে এই সড়ক দিয়ে গাড়ি চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ে।

সড়কে অসংখ্য গর্ত ও যানজটের ভোগান্তির বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সভাপতি এ বি সিদ্দিক প্রথম আলোকে বলেন, সড়ক সংস্কারকাজ চালানোর সময় কি ভাঙা সড়ক মেরামত করতে হয় না? মানুষের ভোগান্তি লাঘবে কি সওজের কোনো দায়িত্ব নেই? তাদের কি হাজার হাজার মানুষের ভোগান্তির বিষয়টি চোখে পড়ে না? তাহলে তারা কি নজরদারি করছে? নগরবাসীর ভোগান্তি লাঘবে দ্রুত ভাঙা সড়ক মেরামতের দাবি জানান তিনি।

সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙা থাকার কারণে যানজটে মানুষের ভোগান্তির বিষয়টি স্বীকার করেন সওজের নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প ব্যবস্থাপক শাহানা ফেরদৌস।