নরসিংদীর রায়পুরায় হত্যাকাণ্ডের শিকার মোমেন মিয়ার স্বজনদের আহাজারি। রোববার রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে
নরসিংদীর রায়পুরায় হত্যাকাণ্ডের শিকার মোমেন মিয়ার স্বজনদের আহাজারি। রোববার রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে

নরসিংদীতে বাড়িতে ঢুকে একজনকে গুলি করে হত্যা

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চরাঞ্চলে পূর্ববিরোধের জেরে দলবল নিয়ে বাড়িতে ঢুকে মোমেন মিয়া (৫৫) নামের এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এ সময় আরও কয়েকটি বাড়িতে হামলায় অন্তত ১০ জন আহত হন। আজ রোববার সকাল ৯টার দিকে চাঁনপুর ইউনিয়নের সওদাগরকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মোমেন মিয়া (৫৫) সওদাগরকান্দি গ্রামের প্রয়াত ধন মিয়ার ছেলে। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ওই গ্রামের মোবারক (৬৫), নাজমুল হোসেন (৩০) ও রুহুল আমিন (৩৭) রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। বাকিরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

নিহত মোমেন মিয়ার স্বজন ও স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, স্থানীয় একটি বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হওয়া নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে এ ঘটনা ঘটে। বিদ্যালয়টির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হতে চান বাংলাদেশ স্কাউটের একজন কর্মকর্তা ফরিদ উদ্দিন।

অন্যদিকে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মোমেন সরকারের অনুসারীরা বাধা দিয়ে আসছিলেন। সম্প্রতি বসে দুই পক্ষের বিরোধ মীমাংসা করে দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য (নরসিংদী-৫) আশরাফ উদ্দিন বকুল। কিন্তু সেই মীমাংসা মেনে নেননি ফরিদ উদ্দিনের লোকজন।

নিহতের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, আজ সকাল ৯টার দিকে পাশের উত্তরপাড়া ও পূর্বপাড়ার লোকজনসহ ফরিদ উদ্দিন দেশি অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে বাড়িতে ঢুকে হামলা করেন। এ সময় আরও কয়েকটি বাড়িতে হামলা করে অন্তত ১০ জনকে মারধর করা হয়।

একপর্যায়ে মোমেন মিয়ার বাড়িতে ঢুকে তাঁকে ঘরে একা পেয়ে গুলি করা হয়। তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে ফরিদ উদ্দিনসহ হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। পরে আহত অবস্থায় তাঁকে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

মোমেন মিয়াকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল বলে জানান রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জান্নাতুল নাইম। তিনি জানান, তাঁর মাথায় ও পায়ে গুলির আঘাতের চিহ্ন ছিল।

চাঁনপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মোমেন সরকারের ভাষ্য, হত্যাকাণ্ডের শিকার মোমেন মিয়া তাঁর চাচাতো ভাই। তাঁকে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করা হয়েছে। ফরিদ উদ্দিনকে ছয় মাসের জন্য অ্যাডহক কমিটির সভাপতি করা হয়েছিল। তিনি নানা ধরনের আর্থিক দুর্নীতি ও অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছিলেন। পরে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এখন তিনি মারামারি ও খুনোখুনি করে সভাপতি হতে চান বলে তাঁর অভিযোগ।

অভিযুক্ত ফরিদ উদ্দিন বাংলাদেশ স্কাউটের (নোয়াখালী ও ফেনী অঞ্চলের) একজন সহকারী পরিচালক। মুঠোফোনে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি বর্তমানে কর্মস্থল নোয়াখালীতে আছি। তাহলে আমি গ্রামের হত্যাকাণ্ডে কীভাবে জড়িত থাকব? অভিযোগ তো যে কেউই করতে পারেন। যাচাই-বাছাই ও তদন্ত না করে তো এমন মিথ্যা অভিযোগ তোলা উচিত না।’

গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাওয়া মোমেন মিয়ার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মজিবুর রহমান। তিনি জানান, ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিরা পলাতক। তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।