আবদুল্লাহ মোহাম্মদ শিহাব
আবদুল্লাহ মোহাম্মদ শিহাব

সাঁতরে ডাকাতিয়া নদী পার হওয়ার চেষ্টা, ১৮ ঘণ্টা পর কলেজছাত্রের মরদেহ উদ্ধার

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে ডাকাতিয়া নদী সাঁতরে পার হওয়ার সময় নিখোঁজ হওয়া কলেজছাত্র আবদুল্লাহ মোহাম্মদ শিহাবের মরদেহ ১৮ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে চৌদ্দগ্রাম ও নাঙ্গলকোট উপজেলার সংযোগস্থল জাকজোর-নারান্দিয়া সেতু-সংলগ্ন ডাকাতিয়া নদী থেকে ডুবুরি দল তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে।

শিহাব (১৮) নাঙ্গলকোট উপজেলার রায়কোট ইউনিয়নের নারান্দিয়া গ্রামের জহিরুল ইসলাম ও তাসলিমা দম্পতির একমাত্র ছেলে। তিনি চট্টগ্রাম নৌবাহিনী স্কুল অ্যান্ড কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সদস্যরা জানান, ঈদের ছুটিতে শিহাব গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন। শুক্রবার দুপুরে তিন বন্ধুকে নিয়ে নিজ গ্রাম থেকে তিনি ডাকাতিয়া নদী সাঁতরে পার হয়ে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ঝাকজোর এলাকায় তাল সংগ্রহ করতে যান। পরে জুমার নামাজের আগে দ্রুত বাড়ি ফেরার জন্য তাঁরা আবার নদী সাঁতরে পার হওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় দুই বন্ধু নিরাপদে তীরে উঠতে পারলেও শিহাব নদীর মাঝপথে তলিয়ে যান।

খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন নদীতে নেমে তাঁকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে চৌদ্দগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায়। বিকেলে চাঁদপুর থেকে আসা ডুবুরি দলও নদীতে তল্লাশি চালায়। তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত তাঁর সন্ধান না মেলায় রাতের জন্য অভিযান স্থগিত করা হয়। আজ সকালে আবার উদ্ধার অভিযান শুরু হলে নদীর কচুরিপানার নিচ থেকে শিহাবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

শিহাবের বাবা জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে ছেলেকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে এসেছিলাম। শুক্রবার দুপুরে বন্ধুদের সঙ্গে বের হওয়ার পর নদীতে নিখোঁজ হওয়ার খবর পাই। দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর আজ সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঈদের ছুটিতে বাড়িতে আনন্দ করতে এসে আমার একমাত্র ছেলেটা লাশ হলো। এখন আমি কী নিয়ে বাঁচব?’

নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান বলেন, ফায়ার সার্ভিস ও ডুবুরি দলের যৌথ অভিযানে শিহাবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।