যশোর-৩ (সদর) আসনের সার্বিক পরিস্থিতি সাংবাদিকদের জানাতে জামায়াত প্রার্থী আবদুল কাদেরের সংবাদ সম্মেলন
যশোর-৩ (সদর) আসনের সার্বিক পরিস্থিতি সাংবাদিকদের জানাতে জামায়াত প্রার্থী আবদুল কাদেরের সংবাদ সম্মেলন

যশোর-৩ আসন

দাগি সন্ত্রাসীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার পাল্টাপাল্টি অভিযোগ জামায়াত ও বিএনপির

যশোর-৩ (সদর) আসনে ভোটের মাঠে প্রভাব বিস্তারের জন্য দাগি সন্ত্রাসীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার পাল্টাপাল্টি অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ মঙ্গলবার জামায়াত ও বিএনপির প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্টরা পাল্টাপাল্টি এ অভিযোগ করেন।

এদিকে এই আসনে ১৯০টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে বিএনপি ৫০টি ও জামায়াত ৩৫টি ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তবে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় ৫০টির কম কেন্দ্রকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

যশোর সদর আসনের সার্বিক পরিস্থিতি সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরার জন্য আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় জামায়াতের প্রার্থী আবদুল কাদের প্রেসক্লাব যশোর মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেন। তিনি বলেন, ‘প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর লোকজন আমার নির্বাচনী পোলিং এজেন্টদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। নির্বাচনী প্রচারের সময় গত এক সপ্তাহে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের কর্মী–সমর্থকদের প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের কর্মী–সমর্থকেরা হুমকি দিয়েছে। নারী কর্মীদের হেনস্তা করেছে। আচরণবিধি লঙ্ঘনের চারটি লিখিত অভিযোগ জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দাখিল করা হয়েছে। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। যে কারণে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছে।’

জামায়াতের প্রার্থীর নির্বাচনী প্রধান এজেন্ট নূর মামুন অভিযোগ করে বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের জামিনে মুক্ত করে এনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পক্ষে ভোটের মাঠে প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছে। তারা সন্ত্রাসীদের আশ্রয়–প্রশ্রয় দিচ্ছে। এতে ভোটকেন্দ্রে ভোটের দিন প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। আমরা এই আসনে ৩৫টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে প্রশাসনের কাছে তালিকা জমা দিয়েছি।’

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ও যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা কোনো সন্ত্রাসীকে আশ্রয়–প্রশ্রয় দিচ্ছি না। বরং মাঠ থেকে আমাদের কাছে অভিযোগ আসছে যে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পক্ষে সন্ত্রাসীরা মাঠে নেমেছে। এ ছাড়া দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে খেয়াল রাখার জন্য ভোটারদের টাকা দেওয়া হচ্ছে, এমন অভিযোগও আছে।’

ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রের ব্যাপারে দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘গোয়েন্দা সংস্থা ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই আসনে ৫০টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আমরাও এই সব কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করি।’

প্রার্থীদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে যশোর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ‘জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে কয়েকটা লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি। অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে নির্বাচন তদন্ত ও বিচারিক কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। আজ থেকে প্রতিটি আসনের জন্য দুজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিচারিক কাজ করবেন। অভিযোগগুলো নিষ্পত্তি করার দায়িত্ব এই কমিটির ওপর।’

ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘ভৌগোলিক দিক, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বাড়িসহ কয়েকটি দিক বিবেচনা করে গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র নির্ণয় করা হয়। এ ধরনের ভোটকেন্দ্র ৫০টি থেকে কমিয়ে আনা হয়েছে। নির্বাচনের আগে আরও কিছু কমে আসবে। আমরা আমাদের মেকানিজম দিয়ে ভোটকেন্দ্র নিরাপদ রাখার চেষ্টা করছি।’ সন্ত্রাসীদের প্রভাবের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে কোনো প্রার্থী আমাদের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ করেননি।’

যশোর-৩ আসনে জামায়াত, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টিসহ (সিপিবি) মোট ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৮৬৯ জন।