বিশ্বকাপ ফুটবল

বড় পর্দা আর ভূরিভোজের আয়োজন নিয়ে প্রস্তুত জামালপুর

বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল খেলা ঘিরে নানা প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে জামালপুর শহরের মুকুন্দবাড়ী এলাকায়
ছবি: প্রথম আলো

ঘড়ির কাঁটায় আজ রোববার সকাল নয়টা। একদল যুবক ব্যস্ত এলাকার বড় ভাইদের কাছ থেকে চাঁদা ওঠাতে। তাঁরা বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে ডেকে ডেকে চাঁদা নিচ্ছেন। এই চাঁদার টাকায় আজ বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে আর্জেন্টিনা বনাম ফ্রান্সের খেলার সময় খিচুড়ি ও বড় পর্দার আয়োজন করা হবে। জামালপুর শহরের মুকুন্দবাড়ী এলাকার দৃশ্য এটি। শুধু মুকুন্দবাড়ী নয়, আর্জেন্টিনা বনাম ফ্রান্সের এই খেলাকে ঘিরে জামালপুর শহরজুড়ে সমর্থকদের মধ্যে নানা আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।

এবারের বিশ্বকাপ ফুটবলের আসর শেষ হচ্ছে আর্জেন্টিনা বনাম ফ্রান্সের খেলার মধ্য দিয়ে। খেলা ঘিরে সমর্থকদের মধ্যে চলছে গল্প, আড্ডা, খুনসুটি আর তর্ক। একজন আরেকজনের উপস্থিতিতেই শুধু নয়, এই উন্মাদনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও (ফেসবুক) ছড়িয়েছে। গত এক মাস বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে উজ্জীবিত ছিল জামালপুরের ফুটবলপ্রেমীরা। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে প্রায় সব জায়গায় আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের সমর্থকদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডার কমতি নেই।

পৌর শহরের মুকুন্দবাড়ী এলাকার মো. মামুন মিয়া প্রাইভেট কারের চালক। তিনিসহ কয়েকজন যুবক ঘুরে ঘুরে এলাকার বড় ভাইদের কাছ থেকে টাকা তুলছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আজ রাতে ফাইনাল খেলা। সবচেয়ে বড় বিষয় আর্জেন্টিনা ফাইনাল খেলবে। আর্জেন্টিনার প্রতিটি খেলায় আমরা খাওয়াদাওয়া ও বড় পর্দায় সমর্থকদের খেলা দেখানোর আয়োজন করেছি। আজ তো ফাইনাল খেলা, তাই নানা আয়োজন থাকছে। এসব আয়োজনের টাকা তো দু-একজনে দেওয়া সম্ভব নয়। ফলে এলাকার বড় ভাইদের কাছ থেকেও সহযোগিতা নিচ্ছি। দুই শতাধিক মানুষের জন্য খিচুড়ির আয়োজন থাকবে। শুধু আমরাই না, এলাকার মোড়ে মোড়ে এই আয়োজন চলছে।’  

আর্জেন্টিনার সমর্থক মুকুন্দবাড়ী এলাকার বাসিন্দা আবুল কালাম বলেন, ‘সকাল নয়টার দিকে এলাকার ছোট ভাইয়েরা খেলার আয়োজনের জন্য চাঁদা নিতে এসেছিল। আর্জেন্টিনার ফাইনাল খেলা বলে কথা, তাই টাকা দিয়ে দিলাম। মেসির শেষ বিশ্বকাপ এটি। আমাদের প্রত্যাশা মেসির জাদুতে আর্জেন্টিনা জিতবে। শেষ হাসিটা আমরাই হাসতে চাই।’

সদর উপজেলা পরিষদসংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে চলছিল আজকের ফাইনাল খেলার আলোচনা। তাঁদের একজন হাসান মিয়া। খেলা নিয়ে আলাপচারিতায় তিনি বলেন, ‘আমি কোনো দলের কট্টর সমর্থক নই। কিন্তু ভালোবাসি মেসির খেলা। মেসির জন্যই খেলা দেখি। আর্জেন্টিনা দলে একমাত্র মেসিকেই চিনি। আর মেসির খেলা দেখতেই বিশ্বকাপ খেলা দেখছি। কষ্ট লাগছে, আজকের পর বিশ্বকাপের মঞ্চে মেসিকে আর দেখা যাবে না ভেবে। আজকে শেষ হাসিটা যাতে মেসি হাসে, তার চোখে পানি দেখতে চাই না।’

জামালপুর শহরের মুকুন্দবাড়ী, উপজেলা পরিষদ এলাকা, কাছারিপাড়া, তমালতলা, বশাকপাড়া, বানিয়া বাজার ও বজ্রাপুর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, শহরের অর্ধশতাধিক জায়গায় খেলা দেখার আয়োজন করা হচ্ছে। খেলা শুরুর আগেই খিচুড়ি রান্না হবে। খেলা শেষে খিচুড়ি খাওয়াদাওয়া হবে। চলছে সেই প্রস্তুতি।