
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন ২ নম্বর গেট এলাকায় খাবারের দোকানে অভিযান গেলে চাকসু প্রতিনিধি ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনা ঘটেছে। আজ বুধবার বেলা দেড়টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
চাকসু ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী ২ নম্বর গেট এলাকায় বসবাস করেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে ওই এলাকার কয়েকটি খাবারের দোকানে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, পুলিশ ও চাকসু প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ছয়টি প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম পাওয়ায় মোট ৩৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এর মধ্যে জাহান বেকারি অ্যান্ড রেস্টুরেন্টকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও অন্যান্য অনিয়মের দায়ে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
জরিমানার পর স্থানীয় কয়েকজন অভিযানের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁদের অভিযোগ, একই এলাকায় আরও দোকান থাকলেও কেন নির্দিষ্ট কয়েকটিতে অভিযান চালানো হচ্ছে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় অভিযানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের প্রায় দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।
চাকসুর পাঠাগার ও ক্যাফেটেরিয়াবিষয়ক সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘অভিযোগের ভিত্তিতে কয়েকটি দোকানে জরিমানা করা হয়েছে। অভিযানে ভোক্তা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, পুলিশ ও চাকসু প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তবে জাহান বেকারিতে জরিমানা করার পর স্থানীয় লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। আমাদের প্রায় দুই ঘণ্টা সেখানে আটকে রাখা হয়। এমনকি চাকসু প্রতিনিধিদের প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে।’
তবে জাহান বেকারি অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের মালিক মো. সোলায়মান চৌধুরী অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু জানতে চেয়েছি, আশপাশের অন্য দোকানগুলোতে কেন একই ধরনের অভিযান চালানো হচ্ছে না। কাউকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়নি। স্থানীয় লোকজন প্রশ্ন তুললে অভিযানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা সেখানে কিছু সময় অবস্থান করেন।’
সোলায়মান চৌধুরী আরও বলেন, ‘অভিযানের সময় কিছু অসংগতির কথা বলে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তবে আমরা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচয়পত্র দেখতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তা দেখানো হয়নি।’
চাকসু প্রতিনিধিদের প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগও অস্বীকার করেন সোলায়মান চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘২ নম্বর গেট বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার বাইরে। সেখানে চাকসু প্রতিনিধিদের উপস্থিতির এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলাম। কাউকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়নি। শুধু বলেছি, হঠাৎ এত শিক্ষার্থীর উপস্থিতি বিভ্রান্তিকর ছিল। কারণ, কিছুদিন আগেই স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে এখানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক মো. কামরুল হোসেন বলেন, ‘২ নম্বর গেট বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের এলাকা হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল, কেন চাকসু প্রতিনিধিরা সেখানে ছিলেন। তবে ম্যাজিস্ট্রেট চাইলে যেকোনো স্থানে অভিযান পরিচালনা করতে পারেন। জরিমানাও আদালতের এখতিয়ার অনুযায়ী হয়েছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। পরে বিষয়টি বুঝিয়ে বললে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।’
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আনিসুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘নিয়মিত তদারকির অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে ছয়টি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে মোট ৩৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।’
আনিসুর রহমান আরও বলেন, ‘সব দোকানে একসঙ্গে অভিযান চালানো সম্ভব নয়। ধাপে ধাপে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আমাদের দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ রাখা হয়েছিল—বিষয়টি ঠিক সে রকম নয়। পরিস্থিতি কিছুটা উত্তেজনাপূর্ণ হলেও দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে।’ পরিচয়পত্র না দেখানোর অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সব তথ্য সরকারি ওয়েবসাইটে উন্মুক্ত রয়েছে। সরকারি অনুমতি নিয়েই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।’