
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পয়লা বৈশাখে শোভাযাত্রাসহ কোনো কর্মসূচিতে অংশ নেবেন না চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা। বর্ষবরণের সব প্রস্তুতি নিলেও শেষ পর্যন্ত বাজেট বরাদ্দ নিয়ে অসন্তোষ থেকে তারা অনুষ্ঠান বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
আজ বুধবার বিকেলে শিক্ষার্থীরা বৈশাখী শোভাযাত্রাসহ সব ধরনের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম স্থগিত রাখার ঘোষণা দেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পরিকল্পনা ও বাজেট নির্ধারণ–সংক্রান্ত কোনো বৈঠকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। প্রায় পাঁচ লাখ টাকার বাজেটও তাদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই নির্ধারণ করা হয়েছে, যা তাঁরা অপর্যাপ্ত বলে মনে করছেন। এ অবস্থায় তাঁরা আপাতত সব আয়োজন বন্ধ রেখেছেন এবং প্রয়োজনে নিজেদের উদ্যোগে ছোট পরিসরে অনুষ্ঠান আয়োজনের কথাও জানিয়েছেন।
শিল্পী রশিদ চৌধুরী হোস্টেলের সহসভাপতি, শাখা ছাত্রদলের সহসাধারণ সম্পাদক ও চারুকলা ইনস্টিটিউটের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী খন্দকার মাসরুর আল ফাহিম বলেন, ‘আমরা শুরু থেকেই আয়োজন করতে আগ্রহী থাকলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে যথাযথ সাড়া পাইনি। কোনো বৈঠকে শিক্ষার্থীদের রাখা হয়নি। তাঁরা নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রায় পাঁচ লাখ টাকার বাজেট নির্ধারণ করেছেন। আয়োজনের দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের ওপর থাকলেও আমাদের যথাযথ মর্যাদা দেওয়া হয়নি। এ পরিস্থিতিতে দাবি না মানলে আমরা নিজ উদ্যোগে সীমিত পরিসরে অনুষ্ঠান আয়োজন করতে বাধ্য হব।’
চারুকলা ইনস্টিটিউটের মাস্টার্সের আরেক শিক্ষার্থী মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীরা নিজ উদ্যোগে কিছু প্রস্তুতি শুরু করেছিলাম। বাজেট চাইতে গেলে বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও তা দেওয়া হয়নি। ফলে সময়মতো কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। বৈশাখী আয়োজনের মতো বড় অনুষ্ঠানের জন্য পর্যাপ্ত সময় প্রয়োজন। কিন্তু এ পরিস্থিতির কারণে আমরা কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছি।’
চারুকলার একাধিক শিক্ষার্থী জানান, প্রশাসন যদি তাদের দাবি না মেনে পরিকল্পনায় অংশগ্রহণের সুযোগ না দেয়, তবে তারা প্রাতিষ্ঠানিক আয়োজন বর্জন করে নিজেদের উদ্যোগে বৈশাখ উদ্যাপন করবেন।
চারুকলা ইনস্টিটিউটের পরিচালক তাসলিমা আক্তার বলেন, ‘সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট কর্তৃপক্ষই নির্ধারণ করে থাকে, এটিই দীর্ঘদিনের রীতি। তবে এবার শিক্ষার্থীরা এ প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন চেয়েছেন। তাঁরা বৈশাখী শোভাযাত্রা–সংক্রান্ত বৈঠকে সরাসরি অংশ নিতে আগ্রহী। আমি মনে করি, শিক্ষার্থীদের দাবিটি যৌক্তিক।’
পয়লা বৈশাখ আয়োজক কমিটির সদস্যসচিব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, কেন্দ্রীয় কমিটিতে চারুকলা ও নাট্যকলা বিভাগের সভাপতিরা শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন। তাই শিক্ষার্থীদের অবজ্ঞার প্রশ্নই আসে না। কমিটির সবাই মিলে আলোচনা করেই বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে। সব সময় শিক্ষার্থীদের চাহিদা অনুযায়ী বাজেট দেওয়া সম্ভব নয়। কাজ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের নিজস্ব বিষয়।
আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ও সহ-উপাচার্য (প্রশাসনিক) মো. কামাল উদ্দিন বলেন, ‘প্রশাসন কখনোই শিক্ষার্থীদের অসম্মান করার উদ্দেশ্যে কাজ করে না। বরং জাতীয় এ আয়োজনের দায়িত্ব চারুকলার শিক্ষার্থীদের ওপর অর্পণ করা হয়েছে সম্মানের জায়গা থেকে। ইতিমধ্যে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমন্বয়ের কথা জানানো হয়েছে। উপাচার্যও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। আশা করি, ভুল–বোঝাবুঝি কাটিয়ে শিক্ষার্থীরা আবারও এ আয়োজনে অংশ নেবেন।’