
সরকার পতনের এক দফা দাবিতে অসহযোগ আন্দোলনের অংশ হিসেবে নোয়াখালী শহর দখলে নিয়েছেন হাজারো ছাত্র-জনতা। আজ রোববার সকাল ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ৩টা পর্যন্ত জেলা শহর মাইজদীর টিভি সেন্টার থেকে দত্তের হাটের প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকা আন্দোলনকারীদের দখলে ছিল। ক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীদের সঙ্গে একাধিক স্থানে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় ভাঙচুরের শিকার হয়েছে একাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। এসব ঘটনায় উভয় পক্ষের কমপক্ষে কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
অসহযোগ আন্দোলনের কারণে শহরের প্রায় সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। বন্ধ রয়েছে প্রায় সব ধরনের যানবাহনের চলাচল। শহরের প্রধান সড়কে রিকশা–সাইকেলও চলাচল করতে পারছে না। আজ জেলা শহরের সোনাপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে ঢাকা কিংবা চট্টগ্রামের উদ্দেশে দূরপাল্লার কোনো যানবাহন ছেড়ে যায়নি। আন্দোলনকারীদের দফায় দফায় বিক্ষোভ ও স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে উঠেছে জেলা শহর।
প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আজ সকাল থেকে অসহযোগ কর্মসূচি পালনের লক্ষ্যে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা জেলা শহর মাইজদীর পৌরবাজার এলাকায় জড়ো হতে থাকেন। বেলা যত বাড়ে, আন্দোলনকারীদের সংখ্যাও তত বাড়ে। সাধারণ মানুষকেও সড়কে অবস্থান নিতে এবং বিক্ষোভে অংশ নিতে দেখা যায়।
সকাল নয়টার দিকে নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরী তাঁর অনুসারীদের নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দলীয় কার্যালয় দেখতে যান। তিনি চলে যাওয়ার পর তাঁর অনুসারী ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতা–কর্মীদের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়। এ সময় একাধিক গুলির শব্দ শোনা যায়। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের ধাওয়ায় ছাত্রলীগ–যুবলীগ নেতা–কর্মীরা পিছু হটেন।
দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে শহরের মাইজদী বাজার এলাকার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ছাত্রলীগ–যুবলীগ নেতা–কর্মীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় কয়েকজনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া মাইজদী বাজারে একটি রেস্টুরেন্টে হামলা–ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। অপর দিকে দুপুরে মাইজদী বাজার এলাকায় জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ইমন ভট্টোর বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় বাড়ির আঙিনায় থাকা ছয়টি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন ইমন ভট্ট।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর জাহিদুল হক রনি প্রথম আলোকে বলেন, সকালে বিক্ষোভকারীদের একটি দল সামনে দিয়ে যাওয়ার পথে থানার দিকে কয়েকটি ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। তখন তাঁদেরকে সরকারি সম্পদ রক্ষার বিষয়ে সতর্ক করা হয়। পরে বিক্ষোভকারীরা চলে যান। শহরের বেশির ভাগ এলাকা বিক্ষোভকারীদের দখলে রয়েছে। পুলিশ থানায় সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।