কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে সীমান্ত এলাকায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে গোলাম মোস্তফা ওরফে টেঙ্গর (৬০) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন সাতজন। চোরাচালান নিয়ে বিরোধের জেরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা।
আজ বৃস্পতিবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে দৌলতপুর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ভারত সীমান্তবর্তী দুর্গম চড়ুইকুড়ি (মরার চর) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত গোলাম মোস্তফা ওই গ্রামের মৃত দৈয়ব মণ্ডলের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদক ও চোরাচালানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য আজাহার আলীর পক্ষের সঙ্গে পটল মণ্ডল পক্ষের বিরোধ চলছিল। পটল রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। অন্যদিকে ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আজাহার বিএনপি–দলীয় স্থানীয় সংসদ সদস্যের অনুসারী ও সমর্থক। স্থানীয় রাজনীতিতে তাদের নেতৃত্বাধীন দুটি গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছিল।
দু–তিন দিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এরই জেরে বৃহস্পতিবার বিকেলে দেশি অস্ত্রশস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় কয়েকটি গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, সংঘর্ষের এক পর্যায়ে পটল মণ্ডলের ছোট ভাই মোস্তফার পেটে প্রতিপক্ষের ছোড়া সড়কি ও গুলি লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় সুমন মিয়া (৫০), হাদু মণ্ডল (৭০), রাশিদুল (৩৫), ফটিক (৫৫), বজলু (৫৫), আজাদ মণ্ডল (৬০) ও রাজু মণ্ডল (৩০) আহত হন। তাঁদের স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজ মণ্ডল প্রথম আলোকে বলেন, কয়েক দিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। পরে তা আজ সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে মোস্তফা নামের একজন নিহত ও আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। ভারত থেকে আসা মাদক বা পাতার বিড়িকে কেন্দ্র্র করে বিরোধের সূত্রপাত হতে পারে।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, সীমান্ত সংলগ্ন দুর্গম চরাঞ্চলে সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। এলাকাটি দুর্গম ও যোগাযোগবিচ্ছিন্ন হওয়ায় সেখানে পুলিশ সদস্যদের পৌঁছাতে বেগ পেতে হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং জড়িত ব্যক্তিদের আটকে ওই এলাকায় অভিযান চালানো হচ্ছে।