সকাল সাড়ে আটটায় হাসিনা খাতুন মাকে ফোন করে বলেছিলেন, ‘মা, আমার ওপর পর গজব চলছে।’ দুপুর ১২টার দিকে মা খবর পান, ফ্যানের সঙ্গে মেয়ে হাসিনার লাশ ঝুলছে। গতকাল সোমবার রাজশাহীর তানোর উপজেলার দমদমা গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।
ময়নাতদন্ত শেষে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ থেকে আজ মঙ্গলবার বেলা দেড়টার দিকে হাসিনা খাতুনের (৩২) লাশ বাবার বাড়ি তানোর উপজেলার পিঁপড়া কালনা গ্রামে নেওয়া হয়। সেখানে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর লাশ দাফন করার কথা রয়েছে।
এ ঘটনায় তানোর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। অন্যদিকে হাসিনার বাবা মতিউর রহমান আদালতে একটি হত্যা মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।
ঘটনার পর থেকে হাসিনার স্বামী সাজু সরদার (৩৭) পলাতক। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ওড়না দিয়ে শয়নকক্ষের ফ্যানের সঙ্গে হাসিনা খাতুনের লাশ ঝুলানো ছিল; পা ছিল মাটিতে ঠেকে। ঘরের দরজা খোলা ছিল। হাসিনার মাথার চুল ভেজা ও কাদা মাখানো ছিল। শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দুই বছর আগে হাসিনা খাতুন ও সাজু সরদারের বিয়ে হয়। সাজু যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে প্রায়ই নির্যাতন করতেন। অন্তত সাতবার নির্যাতন করে স্ত্রীকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছেন। যৌতুক হিসেবে সাজু শ্বশুরের কাছ নগদ লক্ষাধিক টাকা ও গরু নিয়েছেন।
হাসিনার বাবা মতিউর রহমান জানান, গতকাল সকাল সাড়ে আটটায় হাসিনা তাঁর মাকে ফোন করে বলে, ‘মা, আমার ওপর গজব চলছে।’ দুপুর ১২টার দিকে তাঁরা খবর পান, মেয়ের লাশ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছে। মামলা করার জন্য তিনি থানায় গিয়েছিলেন। পুলিশ বলেছে, এ ব্যাপারে একটি জিডি করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে হত্যার আলামত থাকলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে থানায় মামলা হয়ে যাবে।
এ ব্যাপারে তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসানে বলেন, লাশের গায়ে পুরোনো আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। নতুন কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তারপরও তাঁরা ঝুঁকি নিতে চাননি। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে হত্যার আলামত থাকলে থানায় হত্যা মামলা চালু হয়ে যাবে।