
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দোকানের মালিকানা নিয়ে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে দুই হলের অন্তত ১৬ জন শিক্ষার্থী আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। আজ সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চত্বরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল উদ্বোধন হয় ২০১৭ সালে। এরপর ওই এলাকায় তৎকালীন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা হল প্রশাসনের সঙ্গে যোগসাজশে অন্তত ১৫টি দোকান বরাদ্দ দেন। তখন অভিযোগ ওঠে প্রতি দোকান বরাদ্দে তাঁরা এক থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত নিয়েছিলেন। এরপর ২০২৪ সালে ওই এলাকায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল উদ্বোধন হয়। এই হলের সামনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের মালিকানায় আগে থেকে বরাদ্দকৃত কয়েকটি দোকান রয়েছে। এসব দোকানের মধ্যে কাজী নজরুল ইসলাম হলের শিক্ষার্থীরা চারটি দোকানের মালিকানা দাবি করেন।
বিষয়টি নিয়ে কয়েক দিন ধরে দুই হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে রেষারেষি চলছিল। এর মধ্যে আজ তাঁরা সংঘর্ষে জাড়ালেন।
একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, গতকাল রাতে কাজী নজরুল ইসলাম হলের শিক্ষার্থীরা পরিকল্পনা করেন তাঁদের হলের সামনের চারটি দোকানে তাঁরা তালা ঝুলিয়ে দেবেন। এমন তথ্যের ভিত্তিতে আজ সোমবার দুপুরের দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের কয়েকজন শিক্ষার্থী রবীন্দ্র চত্বরে অবস্থান নেন। এ সময় কাজী নজরুল ইসলাম হলের একদল শিক্ষার্থী এলে তাঁদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি হয়। একপর্যায়ে দুই হলের শিক্ষার্থীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক জাকির হোসেন বলেন, ‘আহত শিক্ষার্থীদের আমরা ইতিমধ্যে অ্যাম্বুলেন্সে করে মেডিকেলে পাঠিয়েছি। এখন পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছি। এরপর দুই হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করব।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের উপ–প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা রিজওয়ানুর রহমান বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে জানান, এখন পর্যন্ত ১৬ জন আহত হয়ে চিকিৎসা নিতে এসেছেন। এদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় সাভারের অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্র চিকিৎসাধীন রয়েছেন।