এনসিপি ও বিএনপির নেতা–কর্মীরা পাল্টাপাল্টি অবস্থান নিলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। গতকাল রাতে
এনসিপি ও বিএনপির নেতা–কর্মীরা পাল্টাপাল্টি অবস্থান নিলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। গতকাল রাতে

বিএনপি-এনসিপির মুখোমুখি অবস্থান, চট্টগ্রামের সাড়ে তিন কিলোমিটার সড়কে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ

চট্টগ্রামে জুলাই গ্রাফিতি মুছে ফেলা নিয়ে বিএনপি ও এনসিপির মুখোমুখি অবস্থানের পর এবার নগরের প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার সড়ক ও এর আশপাশে সভা-সমাবেশ, মিছিল নিষিদ্ধ করেছে পুলিশ। আজ সোমবার সকালে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলীর সই করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নিষেধাজ্ঞার কথা জানানো হয়।

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত নগরের জিইসি মোড় থেকে দেওয়ানহাট পর্যন্ত সড়ক এবং এর আশপাশের এলাকায় সভা-সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ থাকবে। এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তার জন্য চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন অধ্যাদেশ-১৯৭৮-এর ৩০ ধারার প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, কেউ এ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে তাঁর বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) পক্ষ থেকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিবিজড়িত গ্রাফিতি মুছে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এমন অভিযোগ তুলে গতকাল রোববার সন্ধ্যায় নগরের টাইগারপাস এলাকায় ‘জুলাই গ্রাফিতি অঙ্কন’ কর্মসূচি পালন করে এনসিপি। দলটির নেতারা জানান, টাইগার পাস এলাকায় সিটি করপোরেশনের প্রবেশ ফটকের সামনে অন্তত চারটি পিলারের গ্রাফিতির ওপর সাদা ও হলুদ রং করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেনের নির্দেশে এসব গ্রাফিতি মুছে ফেলা হয়েছে।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের (সিএমপি) গণবিজ্ঞপ্তি

শাহাদাত হোসেন নগর বিএনপির সাবেক সভাপতি। তাঁর বিরুদ্ধে এনসিপি অভিযোগ তোলার পর টাইগারপাস এলাকায় পাল্টা অবস্থান নেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। এ সময় পুলিশ এসে দুই দলের মাঝামাঝি অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষকে সরিয়ে দেয় পুলিশ।

এদিকে গ্রাফিতি মুছে ফেলার কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি জানিয়ে গতকাল সন্ধ্যা ছয়টার দিকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেয় চসিকের জনসংযোগ শাখা। এতে বলা হয়, চট্টগ্রাম সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেনের নির্দেশে নগরের কোথাও জুলাইয়ের গ্রাফিতি অপসারণের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

মেয়রের বরাতে বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, কোনো শিল্পকর্ম, শিক্ষামূলক বা সামাজিক সচেতনতামূলক গ্রাফিতি অপসারণে তাঁর পক্ষ থেকে আলাদা কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি। বিশেষ করে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিবিজড়িত গ্রাফিতির ক্ষেত্রে এমন নির্দেশনার প্রশ্নই আসে না। এ বিষয়ে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বানও জানানো হয়।

ওই বক্তব্যের পরও সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে বিক্ষোভ মিছিল করেন এনসিপির নেতা-কর্মীরা। পরে চসিকের আমবাগানমুখী প্রবেশপথের সামনে সড়কে রং দিয়ে বিভিন্ন স্লোগান লেখেন তাঁরা।