
বরগুনায় কালবৈশাখীর সঙ্গে তীব্র বজ্রপাত শুরু হয়। বজ্রপাতের বিকট শব্দে আতঙ্কিত হয়ে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১২ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বরগুনা সদর উপজেলার ফুলঝুড়ি স্কুল অ্যান্ড কলেজে এ ঘটনা ঘটে। অসুস্থ শিক্ষার্থীরা হলো হাবিবা, জান্নাতি, ইয়াসমিন, মিম, জান্নাতি, ঐশী, রিয়া মনি, মনিরা, রুমি, কারিমা ও রিয়া মনি। তারা সবাই ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. মাহফুজুর রহমান জানান, বয়স কম হওয়ায় ওই শিক্ষার্থীরা বজ্রপাতের শব্দে ভয় পেয়েছে। এ ছাড়া তাদের সঙ্গে থাকা স্বজন এবং সহপাঠীদের চিৎকারে ভয়টা আরও বেড়েছে। তবে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে আসা শিক্ষার্থীদের কেউই তেমন খারাপ অবস্থায় নেই। পরে যদি কাউকে গুরুতর মনে হয়, তাহলে তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জানা গেছে, প্রতিদিনের মতোই সকালে ফুলঝুড়ি স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের ক্লাস চলছিল। এ সময় আবহাওয়া খারাপ হয়ে কালবৈশাখী শুরু হয়। এ সময় বজ্রপাতও হচ্ছিল। বজ্রপাতের বিকট শব্দে বিভিন্ন শ্রেণিতে পড়ুয়া ১০–১২ জন শিক্ষার্থী আতঙ্কিত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে স্কুলের অন্য শিক্ষার্থীদের সহায়তায় অসুস্থ শিক্ষার্থীদেরকে একটি আলাদা কক্ষে নিয়ে যান শিক্ষকেরা। অসুস্থ হয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা গেলে প্রথমে তাদেরকে স্থানীয় একটি কমিউনিটি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে মোট ১১ জন শিক্ষার্থীকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ফুলঝুড়ি স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোসা. রুনা বলে, ‘আমাদের ক্লাস চলাকালে বৃষ্টি শুরু হলে স্কুলের সামনে থাকা একটি তালগাছে বজ্রপাত হলে বিকট শব্দে আমাদের স্কুলের কয়েকজন অসুস্থ হয়ে যায়। অসুস্থদের বেশির ভাগ স্কুল ভবনের তৃতীয় তলার ষষ্ঠ এবং সপ্তম শ্রেণির ক্লাসের শিক্ষার্থী। আমরা চারতলায় নবম শ্রেণির ক্লাসে ছিলাম।’
রিপা নামের ওই স্কুলের আরেক শিক্ষার্থী বলে, ‘আমাদের স্কুলের সামনেই বজ্রপাত হয়েছে। ওই সময় বিকট শব্দে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাদেরকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।’
ফুলঝুড়ি স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক মো. বশির আহম্মেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড় শুরু হওয়ার সময় আমরা সবাই ক্লাসে ছিলাম। বজ্রপাত হলে স্কুলের তৃতীয় তলায় থাকা শিক্ষার্থীরা বেশি আতঙ্কিত হয়ে অসুস্থ হয়ে যায়। অনেকেই ভয়ে কথা বলতে পারেনি। তাদেরকে স্কুলের হাইজিন কর্নারে নিয়ে গিয়ে যতটুকু সম্ভব হয়েছে সুস্থ করার চেষ্টা করেছি। পরে স্থানীয় প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়ে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের পার্শ্ববর্তী কমিউনিটি ক্লিনিকে নিয়ে গেলে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।’
বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহ আজিজ প্রথম আলোকে বলেন, চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে শিক্ষার্থীদের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। অসুস্থ শিক্ষার্থীদের শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছে। তাদের চিকিৎসার জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা করা হবে।