সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় পরিবেশের ক্ষতি করে একটি মাদ্রাসার পুকুরপাড় থেকে অন্তত ৯টি তালগাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে স্থানীয় এক শিক্ষার্থী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের কোদলা দারুল হেফ্জ মাদ্রাসার পুকুরপাড়ে অবস্থিত বেশ কয়েকটি তালগাছ বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে তালগাছগুলো কাটা শুরু হয়। খবর পেয়ে চান্দাইকোনা এলাকার শিক্ষার্থী ফয়সাল বিশ্বাস মাদ্রাসায় গিয়ে তালগাছ কাটায় বাধা দেন। কিন্তু ততক্ষণে বেশ কয়েকটি তালগাছ কাটা শেষ হয়েছে।
তালগাছ কাটা নিয়ে মো. ফয়সাল বিশ্বাসের সাড়ে চার মিনিটের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে তিনি অভিযোগ করেন, কোদলা মাদ্রাসার পুকুরপাড়ে আড়াই শর বেশি তালগাছ ছিল। কয়েক বছর ধরে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি ধারাবাহিকভাবে তালগাছ কেটে বিক্রি করে দিচ্ছে। অবশিষ্ট কিছু তালগাছ অনেক কষ্টে এলাকার লোকজন মিলে রক্ষা করেছিলেন। মঙ্গলবার পয়লা বৈশাখের ছুটির দিনে আবারও ৯টি তালগাছ কেটে বিক্রি করা হয়। পরিবেশের ক্ষতি করে মাদ্রাসা কমিটি কিছু টাকার জন্য এভাবে গাছ বিক্রি করে দিতে পারে না বলে মনে করেন তিনি।
এ ঘটনায় বুধবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করেন ফয়সাল বিশ্বাস। এ বিষয়ে ইউএনও আবদুল খালেক পাটোয়ারী প্রথম আলোকে বলেন, অভিযোগ পেয়ে উপজেলা বন কর্মকর্তাকে সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বলা হয়েছে।
উপজেলা বন কর্মকর্তা দেওয়ান শহিদুজ্জামান বলেন, মাদ্রাসাটির পুকুরপাড় থেকে বেশ কয়েকটি তালগাছ কাটা হয়েছে। মাদ্রাসার দায়িত্বপ্রাপ্ত মোহতামিম এ সময় মাদ্রাসায় ছিলেন না জানিয়ে তিনি বলেন, ফোন করা হলেও সেখানে থাকা পর্যন্ত তিনি আসেননি।
এ ব্যাপারে মাদ্রাসার মোহতামিম মাওলানা আবদুল বারী বলেন, ‘মাদ্রাসার কমিটি রেজোল্যুশন করে কয়েকটি তালগাছ কাটার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানি।’ এর সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন তিনি।
রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহসানুজ্জামান বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দেখতে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।