
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার সোনামুখী ইউনিয়নের গণিপুর গ্রামে একটি ধাতব গণেশমূর্তি পাওয়া গেছে। প্রায় এক কেজি ওজনের সোনালি রঙের ওই মূর্তিকে ‘সোনা’ মনে করে তিন কিশোর হ্যাকস ব্লেড দিয়ে কেটে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর গ্রামজুড়ে কৌতূহল, রহস্য ও নানা জল্পনা ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার দুপুরে গণিপুর গ্রামের আকরাম হোসেনের ছেলে সাজু হোসেন তার বন্ধু মিনহাজ ও রব্বানীকে নিয়ে বাড়ির পাশের একটি মণ্ডপসংলগ্ন জঙ্গলে গাব ফল পাড়তে যায়। গাছ থেকে নামার সময় সাজুর পায়ে মাটির নিচে শক্ত ধাতবজাতীয় কিছু অনুভূত হয়। পরে তিন বন্ধু মাটি খুঁড়ে সোনালি রঙের একটি গণেশমূর্তি উদ্ধার করে।
প্রথমে বিষয়টি গোপন রাখলেও পরে মূর্তিটি স্বর্ণের হতে পারে, এমন ধারণা থেকে তিন বন্ধু ধনী হওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। পরে মূর্তিটি পুকুরের পানিতে ধোয়ার পর সাজু বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে তিন বন্ধু মিলে হ্যাকস ব্লেড দিয়ে মূর্তিটির মাথা ও কানের অংশ কেটে ভাগাভাগি করে নেয়। আজ শুক্রবার সকালে সাজুর পরিবারের সদস্যরা মিনহাজ ও রব্বানীর বাড়িতে গিয়ে কাটা অংশ ফেরত চাইলে পুরো ঘটনা গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর শত শত মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, মিনহাজ ও রব্বানী মূর্তিটির মাথা ও একটি কান নিজেদের কাছে রাখে। অপর একটি কান ও মূল দেহাংশ সাজুর কাছে ছিল। পরে সাজুর বড় ভাই সজীব মূর্তিটির অবশিষ্ট অংশ নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। এর পর থেকে তার মুঠোফোন বন্ধ থাকায় ঘটনাকে ঘিরে রহস্য আরও বেড়েছে।
সাজু হোসেন বলে, ‘মূর্তিটা দেখতে ভারী আর লোহার মতো মনে হওয়ায় আমরা বাড়িতে নিয়ে আসি। পরে সেটিকে স্বর্ণ মনে করে সেটার অংশ কেটে ভাগ করি। পরে পরিবারের লোকজন বিষয়টি জেনে যায়।’ সে আরও বলে, ‘আমার বড় ভাই মূর্তির মূল অংশ নিয়ে বাইরে গেছে। সম্ভবত সেটি সোনার কি না, পরীক্ষা করাতেই গেছে। এর পর থেকে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।’
গণিপুর গ্রামের বাসিন্দা রাজু জানান, আজ সকালে বিষয়টি গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে গ্রামজুড়ে ব্যাপক হইচই পড়ে যায়। মূর্তিটি পুরোনো বা মূল্যবান ধাতুর হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আবার এটি প্রত্নতাত্ত্বিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য সরদার আয়নাল হোসেন বলেন, গাব পাড়তে গিয়ে তিন কিশোর একটি গণেশমূর্তি পেয়েছে। সেটা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক শোরগোল চলছে। পরীক্ষা ছাড়া এটি স্বর্ণ কি না নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহীন রেজা বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মূর্তিটির প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব থাকতে পারে। আমরা সেটি উদ্ধারে কাজ করছি।’