
‘আমরা যখন শুনেছি যে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তাঁর জীবদ্দশায় এই খাল খনন কর্মসূচিতে এসেছিলেন এবং স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে সবাইকে একত্রিত করে নিজে কোদাল দিয়ে খাল খনন করেছিলেন। আমরা ইতিমধ্যেই খালটি পুনঃখননের উদ্যোগ নিয়েছি।’
গাজীপুরের শ্রীপুরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত চৌক্কার খালটি (গড়গড়িয়া খাল) পরিদর্শনে এসে এ কথা বলেন পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী (এ্যানি)। আজ সোমবার বেলা ১১টায় তিনি উপজেলার ছাপিলাপাড়া গ্রামে শহীদ জিয়ার স্মৃতিবিজড়িত স্থানে এসে উপস্থিত হন। তাঁর সফরসঙ্গী ছিলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন (আজাদ)–সহ মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা। উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য এস এম রফিকুল ইসলামসহ দলের বিভিন্ন স্তরের নেতা–কর্মীরা।
মন্ত্রী খালপাড়ে নেমে সেখানে দখল ও দূষণের চিত্র পরিদর্শন করেন। দুই পাশে কারখানাগুলো থেকে নির্গত বর্জ্য খালের পানিতে মিশে যাওয়ার দৃশ্য দেখেন। খাল পরিদর্শন শেষে সেখানে একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় অংশ নেন পানিসম্পদমন্ত্রী। শ্রীপুর পৌর বিএনপির সদস্যসচিব বিল্লাল হোসেন বেপারীর সঞ্চালনায় ওই সভায় তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখনন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বর্তমান সরকার।
বক্তব্যে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা অবৈধভাবে খাল দখল করে দোকানপাট, বাড়িঘর নির্মাণ করে আসছিলেন। খাল হলো সরকারের সম্পত্তি এবং এটি কেবল জনসাধারণের প্রয়োজনে ব্যবহৃত হবে। জনস্বার্থে এই প্রজেক্টকে বৃহৎ আকারে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, শপথ নেওয়ার পরের দিন থেকেই তাঁরা কাজে নেমে পড়েছেন। এটি জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে দেশপ্রেমিক সরকার গঠনের একটি অনন্য দৃষ্টান্ত। বক্তব্যের শেষে মন্ত্রী এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফলভাবে সম্পন্ন করতে এবং উন্নয়ন ধারা অব্যাহত রাখতে সাধারণ মানুষের বিশেষ সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করেছেন।
সংক্ষিপ্ত সভায় মঞ্চে মন্ত্রীর হাতে স্মারকলিপি তুলে দেন নদী ও প্রকৃতি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম ও নদী পরিব্রাজক দল শ্রীপুর শাখার সভাপতি সাঈদ চৌধুরী।
গত ২১ ফেব্রুয়ারি ‘খালটি এখন বিলীনের পথে’ শিরোনামে প্রথম আলো পত্রিকার ছাপা সংস্করণে ও একই দিন ‘জিয়ার স্মৃতিবিজড়িত শ্রীপুরের খালটি এখন বিলীনের পথে’ শিরোনামে পত্রিকাটির অনলাইন সংস্করণে সংবাদ প্রকাশিত হয়। বিষয়টি নিয়ে উচ্চপর্যায়ে কাজ করবেন জানিয়ে ওই সংবাদে জানিয়েছিলেন গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম রফিকুল ইসলাম (বাচ্চু)। এরপর বিষয়টি নিয়ে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমও সংবাদ প্রকাশ করে।
উল্লেখ্য, চৌক্কার খালটি খননের জন্য ১৯৭৮ সালে সরাসরি এই এলাকায় এসেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তিনি শ্রমিকদের সঙ্গে নিজ হাতে মাটি কাটায় অংশ নেন। সেই স্মৃতি এখনো এলাকাবাসীর মনে অম্লান। তাই জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত এই খালটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুনঃখনন করে ও দখল-দূষণ বন্ধ করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের।