মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে হামহাম জলপ্রপাত দেখতে গিয়ে আহত হওয়া শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সোমবার বিকেলে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের চাম্পারায় চা–বাগানে
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে হামহাম জলপ্রপাত দেখতে গিয়ে আহত হওয়া শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সোমবার বিকেলে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের চাম্পারায় চা–বাগানে

মৌলভীবাজারে জলপ্রপাত দেখতে গিয়ে পিছলে শিক্ষার্থী আহত, দুই ঘণ্টা পর উদ্ধার

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে রাজকান্দি সংরক্ষিত বনাঞ্চলে হামহাম জলপ্রপাত দেখতে গিয়ে পিছলে পড়ে আহত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস অভিযান চালিয়ে আজ সোমবার বিকেলে তাঁকে উদ্ধার করে।

আহত শিক্ষার্থীর নাম তানভীর আহমদ অনিক (২৯)। আজ সকালে ঢাকা থেকে তিনিসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ জন হামহাম জলপ্রপাতে বেড়াতে গিয়েছিলেন।

ফায়ার সার্ভিস ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, টানা বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি ছড়া ও পাথর অত্যন্ত পিচ্ছিল হয়ে পড়েছিল। জলপ্রপাতের দিকে যাওয়ার পথে আজ বেলা আড়াইটার দিকে তানভীর আহমদ পিছলে পড়ে হাতে গুরুতর আঘাত পান। দুর্গম পাহাড়ি পথ অতিক্রম করে তাঁর ফিরে আসা সম্ভব হচ্ছিল না। তখন শিক্ষার্থীরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন।

কমলগঞ্জ থানা–পুলিশ বেলা তিনটার দিকে ওই ঘটনার খবর পায়। তারা ট্যুরিস্ট পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করে। বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে আটকে পড়া ১০ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।
আহত তানভীর আহমদকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অন্য ৯ জন সুস্থ ছিলেন। পরে ১০ শিক্ষার্থী নিজ গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হন।

শ্রীমঙ্গল ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের টিম লিডার আকতার হোসেন বলেন, ‘খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা উদ্ধারকারী দল নিয়ে হামহামের উদ্দেশে রওনা দিই। বৃষ্টির কারণে পুরো পথ অত্যন্ত পিচ্ছিল ছিল। একজন পর্যটক ঝরনার ওপরের অংশে পড়ে গিয়ে হাতে গুরুতর আঘাত পান। স্বাভাবিকভাবে তাঁকে হাঁটিয়ে নিয়ে আসা সম্ভব ছিল না। তাই ঘটনাস্থলেই বাঁশ, বস্তা ও প্রয়োজনীয় উপকরণ দিয়ে অস্থায়ী একটি স্ট্রেচার তৈরি করা হয়। এরপর অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পাহাড়ি দুর্গম পথ অতিক্রম করে তাঁকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসা হয়।’

দুর্গম পাহাড়ি পথ ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও সমন্বিতভাবে কাজ করার ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আটকে পড়া সব পর্যটককে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানান ট্যুরিস্ট পুলিশের শ্রীমঙ্গল জোনের পরিদর্শক প্রজিত কুমার দাস। তিনি বলেন, চিকিৎসা শেষে পর্যটক দল নিরাপদে নিজ গন্তব্যে ফিরে গেছে। ভবিষ্যতে এমন ঝুঁকি এড়াতে বর্ষাকালে হামহামসহ পাহাড়ি এলাকায় ভ্রমণের ক্ষেত্রে পর্যটকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেন তিনি।