নাটোর সদর উপজেলার কাফুরিয়া ইউনিয়নে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের তিন নেতার বাড়িতে হামলা হয়েছে
নাটোর সদর উপজেলার কাফুরিয়া ইউনিয়নে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের তিন নেতার বাড়িতে হামলা হয়েছে

নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের মিছিলের পর নাটোরে তিন নেতার বাড়িতে ভাঙচুর

নাটোর সদর উপজেলায় নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীদের একটি মিছিলের পর ওই এলাকার আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের তিন নেতা–কর্মীর বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

আজ শুক্রবার দুপুরের পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার কাফুরিয়া ইউনিয়নের গাওপাড়া ও মাঝিপাড়া এলাকায় এসব ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী একজন অভিযোগ করেছেন, হামলাকারীরা বিএনপির সমর্থক।

ঘরবাড়ি ভাঙচুরের শিকার ব্যক্তি ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আজ সকালে গাওপাড়া ঢালান এলাকায় মহাসড়কে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা–কর্মী ঝটিকা মিছিল করেন। এ ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দুপুরের পর একদল উত্তেজিত ব্যক্তি লাঠিসোঁটা নিয়ে কাফুরিয়া ইউনিয়নের মাঝিপাড়া এলাকায় জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ফরহাদ বিন আজিজের বাড়ির ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। ওই ব্যক্তিরা বাড়ির প্রতিটি ঘরে ব্যাপক ভাঙচুর চালান। পরে একই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেনের বাড়ি এবং যুবলীগের কর্মী ও ইটভাটার মালিক নাজমুল হোসেনের বাড়িতে ভাঙচুর করা হয়। এ সময় বাড়ির পুরুষেরা পালিয়ে গেলেও নারী ও শিশুরা লাঞ্ছিত হয় বলে অভিযোগ।

খবর পেয়ে সদর থানার পুলিশ ওই এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। রাত পৌনে আটটার দিকে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সেখানে পুলিশ ছিল।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঘরবাড়ি ভাঙচুরের শিকার এক ব্যক্তি প্রথম আলোকে বলেন, ‘যারা হামলা করিছে, তারা এলাকার লোকজন। সবাই বিএনপি করে। আমি বা এলাকার কোনো লোক আজ সকালের মিছিলে ছিলাম না। শুধু শুধু আমাদের ওপর এই অত্যাচার করা হলো। আমরা অসহায়।’

হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেননি কাফুরিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘ভাঙচুর তেমন একটা হয়নি। ছাত্রলীগের ছেলেরা সকালে মিছিল করিছে। মিছিলে বহিরাগতদের সঙ্গে এলাকার ছাত্রলীগের ছেলেরা ছিল। বিকেলে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের লোকজন এলাকায় মিছিল করিছে। মিছিলের সময় কিছু ইটপাটকেল ছুড়তে পারে। তেমন কিছু হয়নি।’

ছাত্রলীগের মিছিলের বিষয়ে নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর রহমান বলেন, রাজশাহী ও নাটোর জেলার সীমান্ত এলাকায় রাজশাহী থেকে কিছু যুবক গাওপাড়া ঢালান এলাকায় ঝটিকা মিছিল করে সটকে পড়েন। আর ভাঙচুরের বিষয়ে তিনি বলেন, এ ঘটনার খবর ভুক্তভোগী ব্যক্তিরা কেউ পুলিশকে দেননি। তবে পুলিশ অন্য সূত্রে জানতে পেরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।