রম্য বিতর্কের ব্যানার
রম্য বিতর্কের ব্যানার

বিতর্কের বিষয় ‘বিচারহীনতা ও মব জাস্টিস’ বদলাতে রাকসু নেতার চাপ, অভিযোগ আয়োজকদের

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক ইমরান লস্করের বিরুদ্ধে একটি রম্য বিতর্কের বিষয় পরিবর্তনের জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

আয়োজকদের অভিযোগ, ‘বিচারহীনতা ও মব জাস্টিস’ বিষয়টি বাদ দিয়ে এর পরিবর্তে ‘জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ও বাস্তবায়ন’ বিষয়টি যুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছিলেন ইমরান। তাঁর পরামর্শ না মানায় বিতর্ক আয়োজনে রাকসুর পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়নি।

আজ সোমবার বিকেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের মুক্তমঞ্চে ওই রম্য বিতর্ক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এটির আয়োজন করছে শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের বিতর্ক ও সাহিত্য বিভাগ।

হল ছাত্র সংসদ সূত্রে জানা যায়, রম্য বিতর্কটির আলোচ্য বিষয়—‘সমস্যার দুনিয়ায় আমিই সেরা; তাই দেশের স্বার্থেই আমাকে বিদায় দেওয়া চলবে না!’ এতে দেশের সমসাময়িক আটটি সমস্যা নিয়ে ব্যঙ্গ ও রসিকতার মাধ্যমে আলোচনা করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিষয়গুলো হলো বেকারত্ব ও ভঙ্গুর শিক্ষাব্যবস্থা; দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি; জ্বালানিসংকট-লোডশেডিং ও যানজট; খাদ্যে ভেজাল ও জনস্বাস্থ্য সংকট; গুজব-সাইবার বুলিং ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার; বিচারহীনতা ও মব জাস্টিস; অন্ধ রাজনীতি ও পপুলিস্ট সিদ্ধান্ত এবং মাদক ও চাঁদাবাজি।

রাকসুর বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক ইমরান লস্কর

অভিযোগকারী শহীদ জিয়াউর রহমান হল ছাত্র সংসদের সহকারী বিতর্ক ও সাহিত্যবিষয়ক সম্পাদক বাঁধন বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেন, রম্য বিতর্কের মাধ্যমে দেশের সমসাময়িক সমস্যাগুলোকে ব্যঙ্গ, রসিকতা ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে তুলে ধরা এবং এসব সমস্যা থেকে উত্তরণের পথ নিয়ে ভাবার সুযোগ তৈরি করাই উদ্দেশ্য।

বাঁধন বিশ্বাস বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে আলোচিত চাঁদাবাজি, সাইবার বুলিং, লোডশেডিংসহ প্রায় সব বিষয় মোশনে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। সেই বিবেচনায় ‘বিচারহীনতা ও মব জাস্টিস’কে দেশের গুরুতর সামাজিক সমস্যা হিসেবে দেখছেন। তাই বিষয়টি বাদ দিতে তিনি রাজি হননি।

আর্থিক সহায়তার বিষয়ে ইমরান সরাসরি কিছু বলেননি। তবে প্রয়োজন হলে তাঁর পকেট থেকে টাকা নেওয়ার কথা বলেছেন। পাশাপাশি ব্যানারে রাকসুর নাম না রাখার অনুরোধ করেছেন।
বাঁধন বিশ্বাস, শহীদ জিয়াউর রহমান হল ছাত্র সংসদের সহকারী বিতর্ক ও সাহিত্যবিষয়ক সম্পাদক

বাঁধন বিশ্বাসের অভিযোগ, রাকসুর বিতর্ক ও সাহিত্য বিভাগ থেকে আয়োজনটিতে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা ছিল। তবে বিতর্কের বিষয় দেখার পর ‘বিচারহীনতা ও মব জাস্টিস’ বিষয়টি পরিবর্তনের পরামর্শ দেওয়া হয়। ইমরান লস্কর ওই বিষয়ের পরিবর্তে ‘জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ও বাস্তবায়ন’ যুক্ত করার পরামর্শ দেন। পরে ‘বিচারহীনতা ও ক্ষমতার অপব্যবহার’ করার প্রস্তাব দিলেও সেটিও গ্রহণ করা হয়নি।

বাঁধনের অভিযোগ, আর্থিক সহায়তার বিষয়ে ইমরান সরাসরি কিছু বলেননি। তবে প্রয়োজন হলে তাঁর পকেট থেকে টাকা নেওয়ার কথা বলেছেন। পাশাপাশি ব্যানারে রাকসুর নাম না রাখার অনুরোধ করেছেন।

রাকসুর সহযোগিতায় বিতর্ক আয়োজনের নির্দিষ্ট নিয়ম ও নীতি আছে। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে, এমন বিষয়ে বিতর্ক আয়োজন থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্তও রয়েছে।
ইমরান লস্কর, রাকসুর বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইমরান লস্কর। তিনি বলেন, রাকসুর সহযোগিতায় বিতর্ক আয়োজনের নির্দিষ্ট নিয়ম ও নীতি আছে। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে, এমন বিষয়ে বিতর্ক আয়োজন থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্তও রয়েছে।

ইমরানের অভিযোগ, চূড়ান্তভাবে তাঁদের সঙ্গে আলোচনা না করেই জিয়া হল সংসদ বিতর্কের ব্যানার ও পোস্টার করেছে। তিনি কয়েকটি বিষয়ে সংশোধনী এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকেন্দ্রিক কিছু বিষয় সংযোজনের পরামর্শ দিয়েছিলেন। তাঁরা তা গ্রহণ করেননি। এ কারণে বিতর্কের ব্যানারে রাকসুর বিতর্ক ও সাহিত্য বিভাগকে সম্পৃক্ত না করার অনুরোধ করা হয়েছে।