নিহত রাজা হোসেন
নিহত রাজা হোসেন

শিয়ালের টানাটানিতে বের হওয়া লাশের পরিচয় মিলল স্যান্ডেল-ঘড়ি দেখে

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে নির্জন মাঠের সড়কের পাশে খড়ের নিচ থেকে উদ্ধার করা অজ্ঞাতনামা তরুণের মরদেহের পরিচয় মিলেছে। মরদেহের পাশে পড়ে থাকা স্যান্ডেল ও হাতঘড়ি দেখে পরিবারের সদস্যরা মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

নিহত তরুণের নাম রাজা হোসেন (২৫)। তিনি উপজেলার পিয়ারপুর ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামের ইমাম আলীর ছেলে। গত সোমবার রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন রাজা হোসেন। এ ঘটনায় তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

ওই যুবককে হত্যার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে থানায় নেওয়া হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তাঁদের নাম–পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
খালেদুর রহমান, ওসি, দৌলতপুর থানা
কুষ্টিয়া দৌলতপুরে মাঠে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। খবর পেয়ে সেখানে স্থানীয় মানুষেরা ভিড় করেন। বুধবার সকালে তোলা

আজ বুধবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে উপজেলার পিয়ারপুর ইউনিয়নের কামালপুর সাতবিল মাঠ এলাকায় একটি ইট বিছানো (হেরিংবোন) সড়কের পাশ থেকে রাজার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

সকালে স্থানীয় কৃষক সানাউল্লাহ মাঠে কাজ করতে যাচ্ছিলেন। নির্জন সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি দেখতে পান, কয়েকটি শিয়াল একটি বস্তু নিয়ে টানাটানি করছে। কাছে এগিয়ে গেলে শিয়ালগুলো পালিয়ে যায়। কাছে গিয়ে সানাউল্লাহ দেখেন, ঘাস ও খড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে অজ্ঞাতনামা তরুণের মরদেহ। এ সময় ওই কৃষকের চিৎকারে আশপাশের মাঠে থাকা অন্য লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে লাশটি উদ্ধার করে। লাশের পরিচয় শনাক্ত করতে ঝিনাইদহ থেকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইমসিন টিম ঘটনাস্থলে আসে।

পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা জানান, রাজা হোসেন সোমবার রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে তাঁর খোঁজ করছিলেন। মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি দেখতে পান। মরদেহের পাশে পড়ে থাকা স্যান্ডেল, হাতঘড়ি ও পরনের কাপড় দেখে তাঁরা লাশটি রাজা হোসেনের বলে শনাক্ত করেন।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, মরদেহটি দুই দিনের পুরোনো হওয়ায় পচন ধরেছে। মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই যুবককে হত্যার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে থানায় নেওয়া হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তাঁদের নাম–পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।