কুষ্টিয়া শহরে মজমপুর এলাকায় ৩৩/১১ কেভি বিদ্যুত উপকেন্দ্র। বুধবার বিকেলে
কুষ্টিয়া শহরে মজমপুর এলাকায় ৩৩/১১ কেভি বিদ্যুত উপকেন্দ্র। বুধবার বিকেলে

কুষ্টিয়া ও নীলফামারীতে বিদ্যুতের কার্যালয় ও স্থাপনায় নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশের কাছে চিঠি

কুষ্টিয়ায় ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো) ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায় সব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও কার্যালয়ে নিরাপত্তা জোরদার করতে পুলিশ সুপারের কাছে চিঠি দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা। এসব স্থাপনায় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির উদ্ভব ও নাশকতা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া নীলফামারীতে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ও নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেডের (নেসকো) আওতাধীন কার্যালয় ও বিদ্যুৎ বিতরণের উপকেন্দ্রে নিরাপত্তা চেয়ে থানায় চিঠি দিয়েছে।

গত সোম ও মঙ্গলবার পৃথক দুটি চিঠি কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারের কাছে দেওয়া হয়।

চিঠির অনুলিপি জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরেও পাঠানো হয়েছে।জানতে চাইলে আজ বুধবার বিকেলে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘দুটি চিঠি আজ (বুধবার) সকালে দেখেছি। আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ বিষয়ে অবগত হয়েছে। পুলিশ নজরদারি রয়েছে। এসপি স্যার ঢাকাতে আছেন। তিনি ফিরলে আলাপ করে প্রয়োজনীয় অন্যান্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ওজোপাডিকো কুষ্টিয়া কার্যালয় থেকে দেওয়া চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বল্পতার কারণে সারা দেশের মতো কুষ্টিয়ার আওতাধীন এলাকায় ব্যাপক হারে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। এর ফলে জনমনে অসন্তোষ বিরাজ করছে এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির উদ্ভব হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সংকটময় এ পরিস্থিতিতে কেপিআইভুক্ত স্থাপনাসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিক স্থাপনার ওপর নাশকতা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখার স্বার্থে ওজোপাডিকো কুষ্টিয়ার আওতাধীন বিদ্যুতের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে নিরাপত্তার ব্যবস্থা জোরদার করতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করতে বলা হয়েছে। পুলিশি নজরদারিও জোরদার করা প্রয়োজন বলে চিঠিতে বলা হয়েছে।

কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুত সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশে বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় উৎপাদন ও সরবরাহে ঘাটতি রয়েছে। সংকট ও গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে সারা দেশে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ–ঘাটতি দেখা দিয়েছে এবং বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক লোডশেডিং হচ্ছে। ফলে কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন এলাকাতেও বিদ্যুৎ–বিভ্রাট ঘটছে।

লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্পকারখানা, কৃষিকাজ এবং অফিস-আদালতের কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় জনমনে অসন্তোষও বাড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুকে কিছু ব্যক্তি কুষ্টিয়ার হরিপুর এলাকায় বিদ্যুৎ অফিস ও সাবস্টেশনে ঘেরাও বা হামলার মতো উসকানিমূলক প্রচারণা চালাচ্ছেন। এতে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এ বিষয়ে দ্রুত আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়ে রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষার জন্য বলা হয়েছে।

নীলফামারী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির চিঠিতে বলা হয়েছে, জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহের ঘাটতির কারণে বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে গ্রাহকের দুর্ভোগ বেড়েছে এবং পাশাপাশি জনমনে অসন্তোষ সৃষ্টি হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে নীলফামারী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সব স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদার করা প্রয়োজন।

নীলফামারী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক খুরশীদ আলম বলেন, ‘কেপিআই প্রতিষ্ঠান হিসেবে এটি একটি রুটিন কাজ। যেকোনো অবস্থাতে শঙ্কা মনে করলে চিঠি দিই। বর্তমানে বিদ্যুৎ সরবরাহের অবস্থা খারাপ থাকায় নিরাপত্তা চেয়ে একটি চিঠি প্রদান করা হয়েছে।’

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি স্থাপনার নিরাপত্তার বিষয়টি উল্লেখ করে চিঠি দিয়েছে। সব স্থাপনায় পুলিশ মোতায়েন ও টহল অব্যাহত আছে।
মো. হাবিবুল্লাহ, ডোমার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা

এ বিষয়ে ডোমার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লাহ বলেন, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি স্থাপনার নিরাপত্তার বিষয়টি উল্লেখ করে চিঠি দিয়েছে। সব স্থাপনায় পুলিশ মোতায়েন ও টহল অব্যাহত আছে।

সৈয়দপুর বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আলিমুল ইসলাম সেলিম স্বাক্ষরিত একটি চিঠি সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক জ্বালানিসংকটের কারণে চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় সারা দেশের মতো সৈয়দপুরেও লোডশেডিংয়ের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে গ্রাহক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। এ অবস্থায় বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক সশস্ত্র পুলিশ ফোর্স মোতায়েনের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সৈয়দপুর থানার ওসি রেজাউল করিম বলেন, বিদ্যুৎ স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেসকোর পক্ষ থেকে পুলিশ ফোর্স মোতায়েনের অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।