সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে সিদ্ধান্ত

বিশ্বনাথে ওরসে মাইক ব্যবহার নিষিদ্ধ, করা যাবে না আলাদা মঞ্চ

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার সব মাজার এবং ওরসে শুধু জিকির-আসকার, ইসলামি গান ও ওয়াজ মাহফিল করা যাবে। এ ছাড়া ওরস চলাকালে কোনো মাইক ব্যবহার করা যাবে না। তবে স্পিকার ব্যবহার করা যাবে। ওরস উপলক্ষে আলাদাভাবে কোনো মঞ্চও তৈরি করা যাবে না।

আজ বুধবার বিকেলে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে সিলেট-২ (বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর) আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনার উপস্থিতিতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে কুলসুম রুবি, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মাহবুবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত রোববার রাতে বিশ্বনাথ উপজেলার শ্রীপুরে ইব্রাহিম মাস্তান ওরফে ইব্রাহিম শাহ মাজারের পাশে হামলা চালিয়ে বাউলগানের আসর পণ্ড করার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় একদল ব্যক্তি হামলা চালিয়ে ভবিষ্যতে গানের আসর বসালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও হুমকি ওই দিন দেন। এ ঘটনার পর একটি মসজিদে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার উভয় পক্ষকে নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য এক সালিস বৈঠকে বসে কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে বিষয়টি মিটমাট করে দেন।

যোগাযোগ করলে ইউএনও উম্মে কুলসুম প্রথম আলোকে বলেন, ‘ম্যাডাম (সংসদ সদস্য) দুই পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে বসে উভয় পক্ষের সম্মতির ভিত্তিতে কিছু শর্ত দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।’

সালিস বৈঠকে পাঁচটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এগুলো হচ্ছে মাজারে ওরস হলে শুধু জিকির-আসকার, ইসলামিক গান, ওয়াজ মাহফিল করা যাবে; কোনো মাইক ব্যবহার করা যাবে না, স্পিকার ব্যবহার করা যাবে; কোনো স্টেজ আলাদাভাবে করা যাবে না; নাচ, গান, মদ, জুয়া মেলা বন্ধ থাকবে, নারী-পুরুষের আলাদা ব্যবস্থা করতে হবে এবং মসজিদের গ্লাস ভাঙচুর বিষয়ে অফিসার ইনচার্জ বিশ্বনাথ থানা এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে প্রমাণ সাপেক্ষে চিহ্নিত করে তাদের বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এসব সিদ্ধান্ত উপজেলার সব মাজার ও ওরসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে বলেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর আগে বাউলগানের আসর পণ্ড করার পর মাজার কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছিল, ইব্রাহিম শাহ মাজারকে কেন্দ্র করে প্রায় ১০০ বছর ধরে নির্দিষ্ট একটি সময়ে বাউলগানের আসর অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এতে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন অঞ্চলের ভক্ত, দর্শনার্থী অংশ নেন। এরই ধারাবাহিকতায় এবারও তিন দিনব্যাপী বাউলগানের আসরের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিন রোববার রাতে হঠাৎ শতাধিক লোক সংঘবদ্ধ হয়ে সেখানে হামলা চালিয়ে বাউলগানের আসর পণ্ড করে দেন।

গানের আসরে হামলার পর সোমবার ভোরে গ্রামের মসজিদে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মাজার অনুসারীদের অভিযুক্ত করেছে একটি পক্ষ। যদিও তাৎক্ষণিকভাবে মাজারের খাদেম মো. দুদু মিয়া সংবাদকর্মীদের কাছে দাবি করেন, হামলাকারীরা গানের আসরে হামলার ঘটনাটি ভিন্ন দিকে নিয়ে যেতে পাশের মসজিদের জানালার গ্লাস ভাঙচুর করে মাজারের ভক্তদের এ ঘটনায় দোষারোপ করেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর প্রথম আলোকে বলেন, মাজারের কেউ নন, বাইরের কিছু মানুষ দূরে প্যান্ডেল তৈরি করে সেদিন রাতের বেলা উচ্চস্বরে হিন্দিগান বাজাচ্ছিলেন। স্থানীয় লোকজন বাধা দিলেও তাঁরা নিষেধ শোনেননি। এরপরই ঘটনাটি ঘটে। পরে মসজিদও ভাঙচুর হয়। কিছু মানুষ ফেসবুকে অতিরঞ্জিতভাবে মাজারে হামলার বিষয়টি ছড়ায়। এখন উভয় পক্ষের সম্মতিতে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে।

তাহসিনা রুশদীর দাবি করেন, বিশ্বনাথে কোনো ধরনের গানবাজনা বন্ধ করা হয়নি। লালনগীতি, আধ্যাত্মিক সংগীত, ইসলামি গান করতে কোনো বাধা নেই। কেবল মদ, গাঁজা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নারী ও পুরুষের জন্য যেন ওরসে আলাদাভাবে বসার ব্যবস্থা থাকে, সেটা বলা হয়েছে। সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতেই দুই পক্ষের সম্মতিতে বিষয়টি সুন্দরভাবে সমাধান করা হয়।