
নাটোরের বনপাড়ায় আরপি স্পেশাল পরিবহনের বাসটি দুর্ঘটনার সময় চালাচ্ছিলেন এটির সুপারভাইজার সোহেল রানা। এ সময় চালক ও সহকারী পেছনের সিটে ঘুমাচ্ছিলেন। এই তথ্য জানিয়েছেন ওই বাসের তিনজন যাত্রী।
নিহত সোহেল রানার (৩৮) বাড়ি রাজশাহীর গোদাগাড়ি উপজেলার ফরাদপুর গ্রামে। তাঁর স্ত্রী ও দুই ছেলে–মেয়ে। তাঁর পরিবারের সদস্যরা জানান, সোহেল রানা আগে বাসের চালক ছিলেন। বছর দুয়েক আগে তিনি বাসের সুপারভাইজার হিসেবে কাজ শুরু করেন।
আজ মঙ্গলবার ভোর চারটার দিকে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়ায় নাটোর-পাবনা মহাসড়কে আরপি স্পেশাল পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে বালুবোঝাই একটি ট্রাকের সংঘর্ষে ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হন অন্তত ৩২ জন।
বাসের যাত্রী ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রমজান আলী (২৮)। দুর্ঘটনায় আহত হয়ে তিনি বনপাড়া পাটোয়ারী হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তিনি ওই হাসপাতাল ত্যাগ করেন। এ সময় তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি বাসের চালকের সিটের দুই সিট পেছনে বসে ছিলাম। বাসটি রাত আনুমানিক ৩টার দিকে পাবনার ঈশ্বরদীতে পৌঁছালে চালকের আসন থেকে চালক উঠে যান এবং সুপারভাইজার বাস চালাতে শুরু করেন। বাসের দরজা বন্ধ করে চালক ও তাঁর সহকারী পেছনের সিটে ঘুমাতে যান। এর ঘণ্টা খানেক পর বাসটি বনপাড়ায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।’
ওই বাসের দুই যাত্রী ইয়াকুব আলী ও আব্দুস সালাম আহত হয়ে বনপাড়া পাটোয়ারী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁরা জানান, দুর্ঘটনার সময় বাসের সুপারভাইজার বাসটি চালাচ্ছিলেন। চালক ও হেলপার (চালকের সহকারী) পেছনের সিটে বসে ছিলেন। বাসটি বরগুনা জেলা শহর থেকে ছেড়ে আসে সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে। ঈশ্বরদীতে কিছু সময় বিরতি দিয়ে আবার বাসটি চালু হওয়ার সময় চালকের আসনে বসেন বাসটির সুপারভাইজার। এর কিছু সময় পর দুর্ঘটনা ঘটে।
আজ দুপুরে ফরাদপুর গ্রামে সোহেল রানার লাশ এসে পৌঁছায়। তাঁর বাড়িতে গিয়ে গিয়ে দেখা যায়, তাঁর পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা আহাজারি করছেন। প্রতিবেশী ও এলাকার লোকজন সেখানে ভিড় জমিয়েছেন। সোহেল রানার স্ত্রী ডলি বেগম বলেন, তাঁর স্বামী আগে বাস চালাতেন। বছর দুয়েক আগে তিনি বাসের সুপারভাইজার হিসেবে কাজ শুরু করেন।
দুর্ঘটনাকবলিত বাস চালানোর বিষয়ে বনপাড়া হাইওয়ে থানার উপরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেন বলেন, দুর্ঘটনার বিষয়টি তদন্ত করা হবে। তদন্ত না করে এ ব্যাপারে নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না।