ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় নিহত মেহেদী হাসান
ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় নিহত মেহেদী হাসান

‘হুমকির মুখে’ মাদকাসক্ত ছেলেকে হত্যা, ৯৯৯-এ ফোন করে বাবার আত্মসমর্পণ

ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলায় মাদকাসক্ত ছেলেকে হত্যার পর জাতীয় পরিষেবা নম্বর ৯৯৯–এ ফোন দিয়ে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন বাবা। আজ রোববার ভোরে উপজেলার আমুয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ছোনাউটা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশের হাতে আটক বাবার নাম আবদুল বারেক খান (৫৫)। তিনি ছোনাউটা গ্রামের মৃত বেলায়েত খানের ছেলে। পুলিশ নিহত ছেলে মেহেদী হাসানের (২৫) লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার বড় মেহেদী হাসান।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, মেহেদী হাসান দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। তিনি প্রায়ই বাবা-মাকে মারধর করতেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় এলাকার অনেক বাসিন্দাকে মারধর ও কুপিয়ে জখম করেছেন। তাঁর অত্যাচার–নির্যাতনের কারণে পরিবারসহ এলাকাবাসী অতিষ্ঠ ছিলেন। গত শনিবার সকালে মেহেদী হাসান বাবা আবদুল বারেকের কাছে তিন লাখ টাকা দাবি করেন। বাবা টাকা দিতে অস্বীকার করায় মেহেদী হাসান রাগে নিজেদের বসতঘর ভাঙচুর করেন। একপর্যায়ে সন্ধ্যায় মেহেদী হাসান বাজার থেকে একটি নতুন দা কিনে নিয়ে বাড়ি যান। মাকে জানান, টাকা না দিলে আজ (শনিবার) রাতে তোমাদের দুজনকে (বাবা–মা) গলা কেটে হত্যা করা হবে।

এ খবর মা খুশি বেগম স্বামী আবদুল বারেককে জানান। পরে বারেকের পরামর্শে স্ত্রী খুশি বেগম রাতে অন্য ঘরে ঘুমান। রাত তিনটার দিকে বারেক ঘুমন্ত ছেলে মেহেদীকে সেই দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন। পরে তিনি জাতীয় পরিষেবা নম্বর ৯৯৯–এ ফোন দিয়ে হত্যার বিষয়টি জানিয়ে থানায় আত্মসমর্পণ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। ৯৯৯ নম্বর থেকে কাঁঠালিয়া থানা–পুলিশকে জানানো হয়। খবর পেয়ে থানা–পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে বারেককে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন। এ সময় মেহেদী হাসানের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।

এ ঘটনায় খুশি বেগম স্বামী আবদুল বারেককে আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। ঘটনার পর সহকারী পুলিশ সুপার (কাঁঠালিয়া-রাজাপুর সার্কেল) মো. শাহ আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন কাঁঠালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু নাছের রায়হান ও পরিদর্শক তদন্ত হারান চন্দ্র পালসহ পুলিশের একটি দল।

এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার শাহ আলম বলেন, মেহেদী হাসান মাদকাসক্ত ছিলেন। তাঁর ভয়ে পরিবারের সদস্যরাসহ এলাকাবাসী অতিষ্ঠ ছিলেন। ঘটনার দিন রাতে মা-বাবার কাছে মেহেদী তিন লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকার করায় মা-বাবা দুজনকে হত্যার করার হুমকি দেন। এতে বাবা বারেক অতিষ্ঠ হয়ে দা দিয়ে কুপিয়ে ছেলেকে হত্যা করেন।