সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় হাওরের বাঁধ কাটা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে। আজ শনিবার সকালে উপজেলার শান্তিপুর এলাকায়
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় হাওরের বাঁধ কাটা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে। আজ শনিবার সকালে উপজেলার শান্তিপুর এলাকায়

পাগনার হাওরের বাঁধ কাটা নিয়ে বিবাদ, দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১১

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার পাগনার হাওরের পানিনিষ্কাশনের জন্য একটি ফসল রক্ষা বাঁধ কাটা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। আজ শনিবার সকালে উপজেলার শান্তিপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, পাগনার হাওরের পানিনিষ্কাশন নিয়ে কিছুদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ চলছে। গত কয়েক দিন টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় ফসলের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। আজ শনিবার সকালে হাওরপারের কাশিপুর গ্রামের বাসিন্দা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য আমির আলীর নেতৃত্বে গ্রাম থেকে ২০-২৫ জনের একটি দল শান্তিপুর গ্রামের পাশে থাকা বাঁধটি কাটতে যায়। তখন শান্তিপুরের লোকজন বাঁধটি কাটতে নিষেধ করেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এ সময় উভয় পক্ষ লাঠিসোঁটা ও দেশি অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে উভয় পক্ষের ১১ জন আহত হন।

আহত ব্যক্তিরা হলেন সামিরুল ইসলাম (৩৩), রাফাত হোসেন (১৮), হানিফ মিয়া (৩৫), কিসমত আলী (৩০), বাকী বিল্লাহ (৩৪), নূর মোহাম্মদ (৪০), মাসুদ মিয়া (৩২), সানেয়ার হোসেন (৪৩), জসিম উদ্দিন (৩৫), আবুল হোসেন (২৪) ও আবুল কালাম (৩৫)। এর মধ্যে তিনজনকে সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।

কাশিপুর গ্রামের বাসিন্দা আমির আলী বলেন, টানা বৃষ্টিপাতে হাওরে রোপণ করা ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। একই সঙ্গে শান্তিপুর গ্রামের কানাইখালী নদীতে একটি বাঁধ থাকায় পানিনিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে পানিনিষ্কাশনের জন্য তাঁরা বাঁধ কাটতে গেলে স্থানীয়রা বাধা দেন। একপর্যায়ে তাঁদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

শান্তিপুর গ্রামের কৃষক সানোয়ার হোসেন বলেন, পাঠামারা খালের বাঁধ না কেটে শুধু কানাইখালী নদীর বাঁধ কাটা হলে শান্তিপুর গ্রামের মানুষের ফসলি জমির ধান পানিতে তলিয়ে যাবে। তিনি জানান, ইউএনও উভয় বাঁধ কাটার নির্দেশ দিলেও একটি বাঁধ রেখে অন্যটি কাটতে আসায় তাঁরা আপত্তি জানান। এতে পরিকল্পিতভাবে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।

জামালগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) পঙ্কজ ঘোষ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে থানায় কোনো পক্ষ অভিযোগ করেনি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুশফিকীন নূর জানান, পাঠামারা খাল ও কানাইখালী নদীর বাঁধ কেটে পানিনিষ্কাশনের জন্য উভয় পক্ষকে নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সিদ্ধান্ত হয়েছে উভয় বাঁধটি কেটে পানি নিষ্কাশন করা হবে। কিন্তু পাঠামারা খালের বাঁধ আগে না কেটে কানাইখালীর বাঁধ কাটার জন্য এক পক্ষ গেলে অন্য পক্ষ বাধা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।