
চলমান আন্দোলন ও ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) শিক্ষার্থীরা। তিন দফা দাবি বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পদক্ষেপকে সন্তোষজনক অগ্রগতি হিসেবে বিবেচনা করে তাঁরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আগামী রোববার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল করার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা। তবে দাবিগুলোর পূর্ণ বাস্তবায়নে কোনো ধরনের গড়িমসি বা অসহযোগিতামূলক আচরণ দেখা গেলে আবারও কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
সম্প্রতি অ্যাগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক মো. রেজাউল ইসলাম ও বাংলা ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক মো. রুবেল আনছারের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এবং বিজয় ’২৪ হলের এক ক্যানটিনকর্মীর বিরুদ্ধে গোপনে ছাত্রীদের ভিডিও ধারণের অভিযোগের বিচার দাবিতে শিক্ষার্থীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বর্জনের কর্মসূচি শুরু করেন। ২৩ জুলাই তিন দফা দাবি জানিয়ে প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। পরে তালা খুলে দেওয়া হলেও ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি অব্যাহত ছিল।
এর মধ্যে বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩৭তম সিন্ডিকেট সভায় যৌন হয়রানির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় অ্যাগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক মো. রেজাউল ইসলামকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়। একই সঙ্গে বাংলা ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক মো. রুবেল আনছারের বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এসব পদক্ষেপসহ তিন দফা দাবির অগ্রগতিকে সন্তোষজনক বিবেচনা করেই আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের পরিচালিত ‘Two Two’ ফেসবুক পেজ থেকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কর্মসূচি ও দাবিদাওয়া ঘোষণা করা হয়ে আসছিল। আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় ‘শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন ও ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি সংক্রান্ত’ শিরোনামে প্রকাশিত এক আপডেটে এ তথ্য জানানো হয়।
সেখানে বলা হয়, ২৩ জুলাই সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বৈঠকে তিন দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়। ওই দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পরে প্রশাসনের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে দাবিগুলোর বাস্তবায়নে সন্তোষজনক অগ্রগতি হয়েছে বলে শিক্ষার্থীরা মনে করছেন।
আপডেটে শিক্ষার্থীরা বলেন, তিন দফা দাবির সন্তোষজনক অগ্রগতি বিবেচনায় রোববার থেকে সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল করার আহ্বান জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে দাবিগুলোর পূর্ণ বাস্তবায়নের বিষয়টি তাঁরা পর্যবেক্ষণে রাখবেন। পরবর্তী সময়ে কোনো ধরনের গড়িমসি বা অসহযোগিতামূলক আচরণ পরিলক্ষিত হলে আবারও কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক মো. সালাউদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘গতকাল বৃহস্পতিবারের সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, তারা রোববার থেকে ক্লাসে ফিরছে। আমরাও অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি, রোববার থেকে ক্লাসে ফিরব।’