কুমিল্লার দেবীদ্বারে ইমন (২৪) নামের এক তরুণের বিরুদ্ধে তাঁর মাকে কুপিয়ে এবং আট মাস বয়সী ভাতিজিকে আছাড় দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় বাধা দিতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন শিশুটির মা ও ইমনের ভাবি রাবেয়া বেগম। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ইমনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন।
আজ সোমবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার বড়শালঘর গ্রামের দক্ষিণ পাড়ার মোস্তফা মাস্টারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত দুজন হলেন ইমনের মা পেয়ারা বেগম ও তাঁর আট মাস বয়সী ভাতিজি ইসরাত জাহান। আহত রাবেয়া বেগমকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সকাল সাড়ে আটটার দিকে ইমন হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে দা দিয়ে তাঁর মা পেয়ারা বেগমকে কোপান। এরপর তিনি তাঁর আট মাস বয়সী ভাতিজি ইসরাতকে আছাড় দেন। এ সময় রাবেয়া বেগম বাধা দিতে এগিয়ে এলে তাঁকেও দা দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়।
পরে স্থানীয় লোকজন আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক দাদি ও নাতনিকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ইমনকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করে পাশের একটি ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখে। পরে পুলিশ গিয়ে তাঁকে হেফাজতে নেয়।
দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, খবর পেয়ে তিনিসহ পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেছেন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ইমন দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। তবে কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্তের পর বিষয়টি পরিষ্কার হবে। ইমন পুলিশি হেফাজতে আছেন। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। দুজনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হবে।