
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া বাইপাস এলাকায় বাস কাউন্টারে আধিপত্য বিস্তার করা নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। এ সময় একটি চায়ের দোকান ও পাঁচটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। আজ বুধবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।
আহত ব্যক্তিদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় বনপাড়া পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হোসেন আলী ফকির (৫৭), পৌর কৃষক দলের সভাপতি মমতাজউদ্দিন শেখ (৫৫) ও পৌর বিএনপির ৭ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি আকতার হোসেনকে (৫২) রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আহত বিএনপি কর্মী আসলাম শেখকে (৫০) বনপাড়া পাটোয়ারী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত পৌর বিএনপির ৯ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি রবিউল ইসলাম মৃধা (৫০), যুবদল কর্মী নাজমুল (৩৫) ও সোহেলকে (৪৮) প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ বেলা ১১টার দিকে বিআরটিসি বাসে যাত্রী ওঠানো নিয়ে হোসেন আলী ফকির ও তাঁর অনুসারী ২০–২৫ জনের সঙ্গে পৌর ছাত্রদলের সদস্য সুজন খান ও তাঁর সহযোগীদের সংঘর্ষ হয়। পরে দুপুর ১২টার দিকে বনপাড়া বাইপাসের পাবনা কাউন্টারের সামনে একটি চায়ের দোকানে হোসেন আলী ফকিরসহ বেশ কয়েকজন বিএনপি নেতা-কর্মী বসে চা পান করছিলেন। এ সময় প্রতিপক্ষের ৪০–৪৫ জন লাঠিসোঁটা নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা করেন। পরে স্থানীয় লোকজন আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠান। হামলাকারীরা এ সময় একটি চায়ের দোকান ও পাঁচটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেন।
শুনেছি, পৌর ছাত্রদলের সদস্য সুজন খানের নেতৃত্বে হোসেন আলী ও তাঁর লোকজনের ওপর হামলা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক।লুৎফর রহমান, নপাড়া পৌর বিএনপির আহ্বায়ক
আহত হোসেন আলী ফকির বনপাড়া পৌর বিএনপির আহ্বায়ক লুৎফর রহমানের সমর্থক হিসেবে পরিচিত। লুৎফর রহমান বলেন, ‘আমি ঢাকায় আছি। শুনেছি, পৌর ছাত্রদলের সদস্য সুজন খানের নেতৃত্বে হোসেন আলী ও তাঁর লোকজনের ওপর হামলা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক।’
তবে সুজন খান এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি হামলার সঙ্গে জড়িত নন।
বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পৌর শহরে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। এ ঘটনায় হামলার কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।