মোস্তাফিজুর রহমান (বাঁয়ে) ও আজিজুর রহমান
মোস্তাফিজুর রহমান (বাঁয়ে) ও আজিজুর রহমান

কুড়িগ্রাম-৪: বিএনপি প্রার্থী বড় ভাইকে হারিয়ে ছোট ভাই জামায়াত প্রার্থীর জয়

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রাম-৪ (চিলমারী, রৌমারী ও চর রাজীবপুর) আসনে বড় ভাইকে হারিয়ে জয় পেয়েছেন ছোট ভাই। এ আসনে জয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৮ হাজার ২১০ ভোট পেয়েছেন।

মোস্তাফিজুরের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ও তাঁর বড় ভাই বিএনপির প্রার্থী আজিজুর রহমান ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৪২৩ ভোট। তাঁদের মধ্যে মোট ভোটের ব্যবধান ২৩ হাজার ৭৮৭টি।

ফলাফল ঘোষণার পর আজ শুক্রবার সকালে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, রাজনীতির মাঠে তাঁর বড় ভাই গুরুজন। তাঁকে সঙ্গে নিয়েই এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা করতে চান। এ জয়-পরাজয় যেন পারিবারিক সম্পর্কে কোনো প্রভাব না ফেলে—এ জন্য তিনি সবার দোয়া কামনা করেন।

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়, তা চলে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। ভোট শেষে গণনা শেষে গতকাল রাত তিনটার দিকে জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ সব আসনের ফল ঘোষণা করেন।

কুড়িগ্রাম রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু বক্কর সিদ্দিক বেসরকারিভাবে জামায়াত প্রার্থীর জয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ফলাফল ঘোষণার পর মোস্তাফিজুর রহমান মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ‘এখন আমি সবার প্রতিনিধি হয়ে সেবা করতে চাই। দল–মত নির্বিশেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এলাকার উন্নয়নে কাজ করব।’

জামায়াতের এই প্রার্থী আরও বলেন, ‘আমার বড় ভাই রাজনৈতিকভাবে অভিজ্ঞ। একসময় আমি তাঁর হাত ধরেই রাজনীতি শুরু করেছিলাম।’

এ আসনে মোট ভোটার ছিলেন ৩ লাখ ৬২ হাজার ৭৫৩ জন। পোস্টাল ব্যালটে বৈধ ভোট পড়েছে ২ হাজার ৮৪৫টি। ভোটের হার ছিল ৬২ দশমিক ৩৪ শতাংশ।
নির্বাচনে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাসদ, বাসদ (মার্ক্সবাদী) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা।

ফলাফল ঘোষণার পর মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জনগণ উন্নয়ন ও নীতির পক্ষে ভোট দিয়েছেন। তিনি দলমত নির্বিশেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এলাকার উন্নয়নে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি বড় ভাইয়ের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে একসঙ্গে কাজ করার কথাও জানান।