হত্যা
হত্যা

মুন্সিগঞ্জে মাদক ব্যবসার দ্বন্দ্বে একজনকে তুলে নিয়ে হাত–পায়ের রগ কেটে হত্যা

মুন্সিগঞ্জে মাদক ব্যবসার দ্বন্দ্বে মুন্না মৃধা (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে হাত–পায়ের রগ কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার চরকেওয়ার ইউনিয়নের টরকি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আজ শুক্রবার ভোরে রক্তাক্ত অবস্থায় মুন্না মৃধাকে বাড়ির সামনে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত মুন্না মৃধা টরকি গ্রামের প্রয়াত মরণ মৃধার ছেলে। তাঁর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সদর থানায় দুটি মামলা আছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চরকেওয়ার ইউনিয়নের টরকি গ্রামের সুমন মিজি, আল আমিন ওরফে জিকু, বাবু মিজি ও রুবেল কাজিদের সঙ্গে মাদক বেচাকেনা করতেন মুন্না মৃধা। চলতি বছরের জুনে মাদকসহ প্রথমে সুমন এবং পরে মুন্না মৃধা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। সম্প্রতি তাঁরা জামিনে মুক্তি পান। এরপর মুন্নার কাছে আগে গচ্ছিত রাখা মাদকের হিসাব–নিকাশ নিয়ে অভিযুক্ত অন্য ব্যক্তিদের বিরোধ দেখা দেয়।

নিহত মুন্নার স্ত্রী সালেহা বেগমের অভিযোগ, গতকাল রাতে মুন্না বাড়িতে শুয়ে ছিলেন। রাত ১০টার দিকে আল আমিন, সুমনসহ কয়েকজন তাঁদের বাড়ি এসে জোর করে মুন্নাকে তুলে নিয়ে যান। এ সময় বাধা দিতে গেলে তাঁকেও মারধর করা হয়। কিছুক্ষণ পর ৮ থেকে ১০ জন বাড়ি এসে মুন্নাকে ছাড়াতে ৬০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে রাজি না হলে তাঁরা তাঁদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর করেন। পরে দিবাগত রাত তিনটার দিকে মুন্নাকে রক্তাক্ত অবস্থায় বাড়ির সামনে ফেলে রেখে যান।

সালেহা বেগম প্রথম আলোকে বলেন, টাকা না দেওয়ায় তাঁর স্বামীর হাত ও পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়েছে। পরে তাঁকে উদ্ধার করে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনার পর এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছেন অভিযুক্ত সুমন মিজি, আল আমিন ওরফে জিকু, বাবু মিজি ও রুবেল কাজি। অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে তাঁদের বাড়িতে খোঁজ নিয়েও কাউকে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তাঁদের সঙ্গে কথা বলা যায়নি।

মুন্সিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তছলিম উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, নিহত মুন্না মাদকাসক্ত এবং মাদক বেচাকেনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। মাদক ব্যবসার দ্বন্দ্বের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তাঁর হাত ও পায়ে কাটা দাগের চিহ্ন আছে। ওসি বলেন, এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত অন্য ব্যক্তিদের আটকের চেষ্টা চলছে।