ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহির্গমন টার্মিনালের ফ্লাইটের তথ্য দেখছেন এক যাত্রী। আজ শুক্রবার বিকেলে
ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহির্গমন টার্মিনালের ফ্লাইটের তথ্য দেখছেন এক যাত্রী। আজ শুক্রবার বিকেলে

হুতিদের হামলার জের

খুলেছে রিয়াদের পথ, ঢাকায় ১ সপ্তাহে বাতিল ১০৭ ফ্লাইট

রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম চালু করেছে সৌদি আরবের সরকার। ১০ অক্টোবর বিমানবন্দরটিতে হামলা করে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি। এর পর থেকে ১৪ অক্টোবর বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত তিনটা পর্যন্ত বন্ধ ছিল এর কার্যক্রম। তবে এখনই রিয়াদ ও দাম্মামে চালু হচ্ছে না বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত বেসামরিক বিমান পরিবহন সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট।

আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় কিং খালেদ বিমানবন্দরের ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখা যায়, মোট ৬৭৬টি ফ্লাইট এদিন বিমানবন্দরটি থেকে যাওয়া-আসার সূচিতে রয়েছে। এর মধ্যে রিয়াদের স্থানীয় সময় বেলা ২টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত সূচিতে থাকা ৮৫ শতাংশ ফ্লাইট যথাসময়ে ছেড়ে গেছে এবং ৮৩ শতাংশ ফ্লাইট বিমানবন্দরটিতে পৌঁছেছে। রিয়াদ ও দাম্মাম রুটে বিমানের ফ্লাইট বন্ধ থাকার ঘোষণা রয়েছে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত। আর রিয়াদগামী বেসরকারি ইউএস-বাংলার ফ্লাইট বন্ধের ঘোষণা রয়েছে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত।

রাত পৌনে একটায় ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রিয়াদগামী একটি ফ্লাইটের যাত্রী মো. হুমায়ূন মিয়া। ফ্লাইট ধরতে বেলা দুইটায় বিমানবন্দরে আসেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এই বাসিন্দা। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘সকালে এয়ার অ্যারাবিয়ার অফিসে গিয়েছি। তারা টিকিট দেখে বলেছে, “ফ্লাইট যাবে। কোনো সমস্যা নেই।” সে জন্য বিমানবন্দরে চলে এসেছি। রোববার ছুটি শেষ, ফিরতে হবে।’ হুমায়ূন জানান, তিনি চার বছর ধরে রিয়াদের একটি দোকানে দরজির কাজ করছেন। পাঁচ মাসের ছুটিতে তিনি দেশে এসেছিলেন।

ক্ষতিগ্রস্ত ১৬,৬২০ যাত্রী

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) আজ বিকেল সাড়ে চারটায় জানায়, গত শনিবার থেকে এ পর্যন্ত সরাসরি ফ্লাইটের পাশাপাশি সৌদি আরব হয়ে চলাচলকারী ট্রানজিট ফ্লাইট মিলিয়ে মোট ১০৭টি ফ্লাইট চলাচল বিঘ্নিত হয়েছে। এর মধ্যে কিছু ফ্লাইট বাতিল ও কিছু ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। এ কারণে এসব ফ্লাইটের ১৬ হাজার ৬২০ জন যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৭টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি, সৌদিয়ার ১০টি এবং রিয়াদ এয়ারের ৭টি ফ্লাইট চলাচল বিঘ্নিত হয়েছে। সব মিলিয়ে সরাসরি ফ্লাইটের সংখ্যা ৪৪। অন্যদিকে ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ২২টি, সালাম এয়ারের ৭টি, ইজিপ্ট এয়ারের ১টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৬টি এবং এয়ার ইন্ডিয়ার ৪টি ফ্লাইট চলাচল বিঘ্নিত হয়েছে। এসব ট্রানজিট ফ্লাইটের সংখ্যা ৬৩।

মেহেরপুরের মানিক হোসেন (মাঝে) ছয় বছর ধরে সৌদি আরবের জেদ্দায় একটি কোম্পানিতে কাজ করেন। দুই মাসের ছুটি শেষে শুক্রবার রাত আটটায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তাঁর জেদ্দা যাওয়ার কথা। শুক্রবার বিকেলে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জরুরি প্রয়োজনে যাত্রীরা জেদ্দা ও মদিনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করে সৌদি আরবে যাতায়াত করতে পারবেন। মদিনা রুটে বোয়িং ৭৮৭-এর পরিবর্তে বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজ যুক্ত করায় প্রতি ফ্লাইটে আসন বেড়েছে ১৪৮টি। পাশাপাশি জেদ্দা রুটে অতিরিক্ত তিনটি ফ্লাইট পরিচালনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাত্রীদের টিকিট ও ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্যের জন্য বিমানের নিকটস্থ বিক্রয়কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

ফ্লাইট পরিবর্তন করছেন বিমানের যাত্রীরা

ঢাকা থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের যাত্রীরা সৌদি আরব যাচ্ছেন দেশটির জেদ্দা ও মদিনার ফ্লাইটে। আজ দুপুরে শাহজালাল বিমানবন্দরসংলগ্ন বিমানের বলাকা কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, রিয়াদ ও দাম্মামের ফ্লাইট পরিবর্তন করতে বলাকায় আসছেন বিমানের যাত্রীরা।

বলাকার সামনে কথা হয় রিয়াদগামী যাত্রী আবদুস সালামের সঙ্গে। গাজীপুর থেকে আসা এই যাত্রী প্রথম আলোকে বলেন, ‘১৭ তারিখ (আজ) রিয়াদের ফ্লাইট ছিল। সেটি পরিবর্তন করতে এসেছি। জেদ্দা হয়ে এখন কর্মস্থলে ফিরতে হবে। আমার সঙ্গে আরও কয়েকজন রয়েছেন, সবাই একসঙ্গে যাব।’ আজ দুপুর থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত বিমানবন্দরে এমন ১০ জনের বেশি যাত্রীর সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের।

বিমানের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, প্রতিদিন সকাল সাড়ে আটটা থেকে রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত তাঁরা যাত্রীদের টিকিট পরিবর্তন–সংক্রান্ত সেবা দিচ্ছেন।