‘ঐতিহ্য-শান্তনু কায়সার সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫’ প্রদান এবং শান্তনু কায়সারের রচনাবলি প্রকাশনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা। মঙ্গলবার বিকেলে বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে
‘ঐতিহ্য-শান্তনু কায়সার সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫’ প্রদান এবং শান্তনু কায়সারের রচনাবলি প্রকাশনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা। মঙ্গলবার বিকেলে বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে

ঐতিহ্য-শান্তনু কায়সার সাহিত্য পুরস্কার প্রদান, প্রকাশিত হলো ১০ খণ্ডের রচনাবলি

আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বিতীয়বারের মতো প্রদান করা হলো ‘ঐতিহ্য-শান্তনু কায়সার সাহিত্য পুরস্কার’। একই সঙ্গে প্রকাশিত হয়েছে বহুমাত্রিক লেখক শান্তনু কায়সারের ১০ খণ্ডের রচনাবলি।

মঙ্গলবার বিকেলে বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে পুরস্কার প্রদান ও রচনাবলি প্রকাশনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

বহুমাত্রিক লেখক অধ্যাপক শান্তনু কায়সারের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর সাহিত্যচিন্তা ও সৃষ্টিশীল উত্তরাধিকারকে ধারণ করার লক্ষ্যে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ঐতিহ্য এবং শান্তনু কায়সার স্মৃতি পাঠাগার ও চর্চা কেন্দ্র যৌথভাবে প্রবর্তন করেছে ‘ঐতিহ্য-শান্তনু কায়সার সাহিত্য পুরস্কার’। এর ধারাবাহিকতায় এদিন ২০২৫ সালের পুরস্কার দেওয়া হলো।

এবার পুরস্কারপ্রাপ্ত তিনটি গ্রন্থ হলো কবি হেমায়েত উল্লাহ ইমনের কাব্যগ্রন্থ ‘ফেনাফুল’, জুবায়ের রশীদের ডকুফিকশন ‘গালিবের মুশায়েরায়’ এবং নাট্যকার শরণ এহসানের নাটক ‘পুরনামা’। অনুষ্ঠানে পুরস্কার বিজয়ী লেখকদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকার চেক, ক্রেস্ট ও প্রশংসাপত্র দেওয়া হয়। বই তিনটি অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এ ঐতিহ্য থেকে প্রকাশিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর। আকস্মিক অসুস্থতার কারণে তিনি উপস্থিত হতে পারেননি। পরিবর্তে অনুষ্ঠানে শান্তনু কায়সারকে নিয়ে ধারণ করা তাঁর একটি ভিডিও বক্তব্য প্রচার করা হয়। বক্তব্যে তিনি তাঁর কৃতী ছাত্র শান্তনু কায়সারকে মানবিক অঙ্গীকারে দায়বদ্ধ একজন লেখক হিসেবে উল্লেখ করেন।

প্রকাশকের বক্তব্যে ঐতিহ্যের প্রধান নির্বাহী আরিফুর রহমান বলেন, ২৫ বছর আগে ঐতিহ্যের প্রকাশনা কার্যক্রম শুরুর সময় শান্তনু কায়সারের দুটি বই ‘বাংলা কথাসাহিত্য: ভিন্ন মাত্রা’ ও ‘ছোট্ট বন্ধুরা’ প্রকাশিত হয়েছিল। এখন তাঁর সব রচনা ঐতিহ্যের মাধ্যমে পাঠকের কাছে পৌঁছে যাবে।

আরিফুর রহমান বলেন, শুরু থেকেই ঐতিহ্য সাহিত্যের তরুণ ও প্রতিভাবান কণ্ঠস্বরকে প্রাধান্য দিয়ে আসছে। বাংলাদেশের বর্তমানে প্রতিষ্ঠিত নব্বই ও শূন্য দশকের বহু তরুণ কবি-লেখকের প্রথম বই প্রকাশের সঙ্গে ঐতিহ্যের নাম জড়িয়ে আছে। ‘ঐতিহ্য-শান্তনু কায়সার সাহিত্য পুরস্কার’ও তেমনই একটি তারুণ্যবান্ধব উদ্যোগ।

অনুষ্ঠানে শান্তনু কায়সারের জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা করেন নাট্যনির্দেশক ফয়েজ জহির। তিনি বলেন, শান্তনু কায়সার ছিলেন নাটকের মানুষ, সাহিত্যের মানুষ এবং একটি সুষম সমাজ বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখা মানুষ। তাঁর রচনাবলি প্রকাশের মধ্য দিয়ে ঐতিহ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছে।

‘ঐতিহ্য-শান্তনু কায়সার সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫’-এর বিজয়ী তিনটি গ্রন্থ নিয়ে আলোচনা করেন কথাসাহিত্যিক পাপড়ি রহমান। পরে পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখকেরা তাঁদের অনুভূতি প্রকাশ করেন।

অস্ট্রেলিয়া থেকে ভার্চু৵য়ালি অনুষ্ঠানে যুক্ত হন ‘শান্তনু কায়সার-রচনাবলি’র সম্পাদক ও শান্তনু কায়সারের কনিষ্ঠ পুত্র রাসেল রায়হান। তিনি একজন প্রচারবিমুখ গুণী লেখকের সমগ্র সৃষ্টিসম্ভার পাঠকের কাছে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়ায় ঐতিহ্যকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘ঐতিহ্য-শান্তনু কায়সার সাহিত্য পুরস্কার’ দেশের তরুণ লেখকদের মধ্যে সাড়া জাগিয়েছে দেখে তাঁরা আনন্দিত।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক মোহীত উল আলম বলেন, শান্তনু কায়সার ছিলেন বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী। তিনি ছিলেন প্রাবন্ধিক, গবেষক, কবি, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, সম্পাদক ও শিক্ষাবিদ। তাঁর রচনা পাঠককে দীপান্বিত করে, বোধকে জাগ্রত করে এবং চেতনাকে শাণিত করে। তাঁর রচনাবলি প্রকাশ করা প্রকাশনা সংস্থা ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

মোহীত উল আলম আরও বলেন, একইভাবে ‘ঐতিহ্য-শান্তনু কায়সার সাহিত্য পুরস্কার’ প্রদানও তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, আজ যে প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ লেখকেরা স্বীকৃতি পেলেন, তাঁরা নিঃসন্দেহে অনুপ্রাণিত হবেন এবং ভবিষ্যতে দেশের সাহিত্যকে আরও সমৃদ্ধ করবেন।