মব (উচ্ছৃঙ্খল জনতার সংঘবদ্ধ আক্রমণ) সন্ত্রাসের মাধ্যমে শিক্ষকদের কখনো প্রকাশ্যে আক্রমণ, কখনো কখনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে চাকরিচ্যুতির শিকার হওয়ার ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ।
এসব ঘটনায় ক্ষোভ ও শঙ্কা প্রকাশ করে বুধবার এক বিবৃতিতে সংগঠনটি বলেছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন বা চাপের মুখে যদি শিক্ষকদের পেশাগত নিরাপত্তা বিনষ্ট হয়, তবে তা সমগ্র শিক্ষাব্যবস্থা এবং সমগ্র জাতির জন্য একটি অশনিসংকেত।
মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম ও সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও তাঁদের মদদদাতাদের খুঁজে বের করে গ্রেপ্তার এবং উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আইন, নৈতিকতা ও মূল্যবোধের প্রতি দায়বদ্ধ থাকার আহ্বানও জানিয়েছেন তাঁরা।
বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের সরকারি–বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মব সন্ত্রাস, হেনস্তা, অপমান, চাকরিচ্যুতির শিকার হচ্ছেন। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ মনে করে, এ ঘটনাগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দেশে অরাজকতা সৃষ্টির জন্য ঘটানো হচ্ছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, একের পর এক এই ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে বিষয়গুলো রাজনৈতিক, যা সমাজে ভীতি উদ্রেককারী দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে। এর ফলে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ক ভয়, অবিশ্বাস ও আস্থাহীনতার দিকে ধাবিত হচ্ছে, যা কিনা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একটি সুস্থ পরিবেশকে নষ্ট করছে।
মহিলা পরিষদ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছে, এ বিষয়ে এখনই পদক্ষেপ না নিলে এবং মব সহিংসতা বন্ধ করতে না পারলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে, শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে। কারণ, ইতিপূর্বে সংঘটিত এ ধরনের শিক্ষক হেনস্তার ঘটনাকে বিচারের আওতায় না আনার ফলে এ ধরনের ঘটনা উত্তরোত্তর বেড়ে চলছে।