কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার
কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার

দুই কারা তত্ত্বাবধায়কের তৎপরতায় জামিনে মুক্তি পেলেন ক্যানসার আক্রান্ত বন্দী

লোহার গরাদের পেছনে জীবন যখন ক্যানসারের কাছে হার মানছিল, ঠিক তখনই আইনের কঠোরতার ঊর্ধ্বে জয়ী হলো মানবিকতা। মাদক মামলার আসামি হয়ে কারাগারে আসা এক যুবকের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার খবর শুনে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন দুই জেলার কারা তত্ত্বাবধায়ক। তাঁদের তৎপরতায় শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার চিকিৎসার স্বার্থে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিন মুক্ত হয়েছেন পাবনার শালগড়িয়ার যুবক মো. আশরাফুল খাঁ।

কারা সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ২৩ নভেম্বর মাদক–সংক্রান্ত একটি মামলায় আশরাফুলকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। কারাবন্দী হওয়ার পর থেকেই তিনি অসুস্থ ছিলেন। প্রথমে সাধারণ অসুস্থতা মনে হলেও পাবনা কারাগারের অধীনে চিকিৎসা চলাকালে ধরা পড়ে তিনি ‘বোন ক্যানসার’ বা অস্থির ক্যানসারে আক্রান্ত। কারাগারের চারদেয়ালের ভেতর ক্যানসারের মতো ব্যয়বহুল ও স্পর্শকাতর রোগের চিকিৎসা একপ্রকার অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার আশায় তাঁকে পাবনা থেকে কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

দুই তত্ত্বাবধায়কের এক মানবিক মিশন

কারা অধিদপ্তর জানায়, কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে চিকিৎসা চললেও আশরাফুলের অবস্থার কোনো উন্নতি হচ্ছিল না। তাঁর জন্য দীর্ঘমেয়াদি এবং নিবিড় পরিচর্যার প্রয়োজন ছিল, যা কারাগারের সীমাবদ্ধ পরিবেশে সম্ভব ছিল না। এই সংকটময় মুহূর্তে আশরাফুলের পাশে দাঁড়ান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের (কেরানীগঞ্জ) জ্যেষ্ঠ তত্ত্বাবধায়ক ফারুক আহমেদ।

ফারুক আহমেদ মানবিক বিবেচনা থেকে যোগাযোগ করেন পাবনা জেলা কারাগারের কারা তত্ত্বাবধায়ক ওমর ফারুকের সঙ্গে। এই দুই কর্মকর্তা মিলে বন্দী আশরাফুলের জীবন বাঁচাতে একটি সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তাঁরা বন্দীর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে আইনি পদক্ষেপের পরিকল্পনা করেন।

আদালতে আবেদন ও মুক্তি

কারা অধিদপ্তরের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (এআইজি-উন্নয়ন ও গণমাধ্যম) মো. জান্নাত-উল ফরহাদ প্রথম আলোকে বলেন, আইনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় এই পর্যায়ে জামিন হওয়া যেখানে কঠিন ছিল, সেখানে কারা কর্তৃপক্ষই অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। কারা তত্ত্বাবধায়ক ফারুক আহমেদ ও ওমর ফারুক আদালতের দৃষ্টিগোচরে আনেন যে ক্যানসার আক্রান্ত এই বন্দীর জন্য কারাগারের বাইরে বিশেষায়িত সুচিকিৎসা জরুরি। চিকিৎসকের পরামর্শ ও মানবিক দিকগুলো বিচারকের সামনে বলিষ্ঠভাবে উপস্থাপন করেন তাঁরা।

আদালত দুই কারাগার প্রধানের মানবিক আরজি ও বন্দীর মুমূর্ষু অবস্থা বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত আশরাফুল খাঁর জামিন মঞ্জুর করেন। ফলে সুচিকিৎসা পাওয়ার এক নতুন সুযোগ তৈরি হলো তাঁর।