বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে দরপত্র আহ্বান উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হোসেন মাহমুদ (মাঝে)। বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা। ২৪ মে ২০২৬
বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে দরপত্র আহ্বান উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হোসেন মাহমুদ (মাঝে)। বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা। ২৪ মে ২০২৬

সমুদ্রে তেল-গ্যাস মিললে তা উন্নয়নের বড় নিয়ামক হবে: জ্বালানিমন্ত্রী

বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে দরপত্র আহ্বান করেছে সরকার। এ উপলক্ষে আজ রোববার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হোসেন মাহমুদ বলেন, ‘জ্বালানি ছাড়া দেশের উন্নয়ন হয় না। জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করেই গ্যাস অনুসন্ধানের চুক্তি করা হবে। এই দরপত্রের মাধ্যমে সমুদ্রে তেল বা গ্যাস পাওয়া গেলে, তা দেশের উন্নয়নের বড় নিয়ামক হবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন না করে স্বচ্ছতার সঙ্গে সবকিছু করা হচ্ছে। দরপত্রে অংশ নিতে ইচ্ছুক অনেকেই ইতিমধ্যে যোগাযোগ করেছেন। এবারের দরপত্র বেশ অংশগ্রহণমূলক হবে।

গত বছর দরপত্রে কোনো কোম্পানি অংশ নেয়নি, এবার নেবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ইকবাল হোসেন মাহমুদ বলেন, ‘এখন নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায়। যারা দরপত্রে অংশ নেবে, তারা স্বাচ্ছন্দ্যে আসবে। গত নির্বাচন নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। বিনিয়োগকারীদের কাছে এটি বড় আস্থার জায়গা। সরকারের ওপর মানুষের আস্থা আছে, তাই বিনিয়োগও আসবে।’

সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে বিদেশি কোম্পানির আগ্রহ বাড়াতে উৎপাদন অংশীদারত্ব চুক্তি (পিএসসি) ২০২৬ সংশোধন করে কিছু সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। বিনিয়োগ আকর্ষণে এবার কী চমক থাকছে, এমন প্রশ্নের জবাবে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, ‘চমক হলো বিএনপি সরকার।’

অতীতে চারটি কোম্পানি সমুদ্রে অনুসন্ধান শুরু করেও কাজ শেষ না করে চলে গেছে, এবারও এমন সংশয় আছে কি না, জানতে চাইলে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে কী হবে, তা বলা সম্ভব নয়।

জ্বালানিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আজ অনেক দিনের একটা জট খুলল। দেশের সম্পদ মাটির নিচে রেখে আমদানির দিকে ঝুঁকে পড়ায় অনেক ক্ষতি হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ পড়েছে। সমুদ্র বিজয়ের নামে অনেক লাফালাফি হলেছে, কিন্তু সমুদ্র থেকে সম্পদ আহরণের কথা ভুলে গিয়েছিল। যাদের সঙ্গে সমুদ্র বিজয় হয়েছে, তারা গ্যাস আবিষ্কার করে ব্যবহার করছে।’ তিনি আরও বলেন, বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় জ্বালানি খাত বেহাল ছিল। এখন পরিস্থিতি আগের চেয়ে ভালো। জ্বালানিনিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আজ জ্বালানি খাতের জন্য একটি আনন্দের দিন। ছয়টি জাতীয় দৈনিকের মাধ্যমে সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের দরপত্র আহ্বান করে আজ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। এটি সব দূতাবাসেও পাঠানো হয়েছে। তিনি জানান, অতীতের দরপত্রে যেসব ত্রুটিবিচ্যুতি ছিল, সেগুলো সংশোধন করা হয়েছে। বাংলাদেশের স্বার্থ সংরক্ষণ করেই জ্বালানি খাতে যে সব ঝুঁকি আছে, তা দূর করা হবে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, গত বছর সাতটি কোম্পানি দরপত্র কিনলেও কেউ জমা দেয়নি। এরপর কমিটি গঠন করে ওই কোম্পানিগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে কারণ জানা হয়। তারা কিছু আপত্তি ও মতামত দিয়েছিল। বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করে গত এক বছর গবেষণা করা হয়েছে। এরপর পিএসসি সংশোধন করা হয়েছে।