
বিভিন্ন ধরনের ফৌজদারি মামলায় পুলিশ, চিকিৎসকসহ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সাক্ষী হয়ে থাকেন। চাকরিরত অবস্থায় সাক্ষ্য দিতে গেলে যাতায়াতসহ অন্যান্য ভাতা পান তাঁরা। তবে অবসরে যাওয়ার পর তাঁদের সাক্ষ্য দিতে আনা দুরূহ হয়ে পড়ে। এতে একধরনের বিপত্তি দেখা দেয়। এ অবস্থায় অধস্তন যেসব আদালত ও ট্রাইব্যুনালের নিজস্ব বাজেট বরাদ্দ আছে, সেসব আদালতের বাজেট থেকে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আপাতত সাক্ষীর খরচ (ভাতা) দিতে আর্থিক খাত তৈরিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন থেকে আইন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, অবসরে যাওয়া পুলিশ, চিকিৎসকসহ এসব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আগে সাক্ষ্য ভাতা দেওয়া হলেও ২০০৬ সালে তা বন্ধ হয়ে যায়। পুলিশ সপ্তাহ-২০২৩-এর শেষ দিনে (৮ জানুয়ারি) বাংলাদেশ পুলিশ মিলনায়তনে প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর সঙ্গে বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মতবিনিময় সভা হয়। সভায় পুলিশসহ অবসরে যাওয়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাক্ষ্য ভাতা প্রদানের বিষয়টি আলোচনায় ওঠে।
অবশ্য ১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধিতে বাদী ও সাক্ষীদের খরচ (ভাতা) দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। কার্যবিধির ৫৪৪ বিধির ভাষ্য, সরকার প্রণীত যেকোনো বিধি সাপেক্ষে যেকোনো ফৌজদারি আদালত উপযুক্ত মনে করলে, সরকারের পক্ষ থেকে কোনো তদন্ত, বিচার বা অন্যান্য কার্যক্রমের উদ্দেশ্যে উপস্থিত থাকা কোনো অভিযোগকারী বা সাক্ষীর যুক্তিসংগত খরচের জন্য অর্থ প্রদানের আদেশ দিতে পারেন।
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ সাইফুর রহমান শনিবার প্রথম আলোকে বলেন, সাক্ষী হিসেবে থাকা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের খরচ তথা ভাতা দিতে আর্থিক খাত সৃষ্টি করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আইন মন্ত্রণালয়ে ওই চিঠি পাঠানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলেছে, ৫৪৪ ধারায় সাক্ষীদের খরচ প্রদানের বিধান রয়েছে। আগে দায়রা আদালত ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দিষ্ট অর্থনৈতিক কোডে সাক্ষীর খরচ বাবদ সরকার প্রয়োজনীয় বরাদ্দ প্রদান করত এবং সাক্ষীদের তা দেওয়া হতো।
বর্তমানে এমন কোনো অর্থনৈতিক খাত (কোড) না থাকায় তা প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই সাক্ষীদের খরচ বাবদ জেলা ও দায়রা জজ এবং সংশ্লিষ্ট আদালত-ট্রাইব্যুনাল, যাদের নিজস্ব বাজেট-ব্যবস্থাপনা আছে, তাদের সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক কোডে সরকার কর্তৃক প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দেওয়া হলে ওই সমস্যার সমাধান হবে। তাই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আইন মন্ত্রণালয়ে ৩১ জানুয়ারি ওই চিঠি পাঠানো হয়।