আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

‘রাত হয়ে যায়, ছেলে আর আসে না’

জুমার নামাজ শেষে মা আরিশা আফরোজের সঙ্গে বসে খাবার খায় আশিকুল ইসলাম (১৪)। রাত হয়ে গেলেও সেদিন ছেলে আর বাসায় ফেরে না। ছেলের অপেক্ষায় বাসার গ্যারেজে হাঁটাহাঁটি করতে থাকার সময় তাঁকে একটি ছেলে মুঠোফোনে একটি ছবি দেখায়। ছবিতে তিনি দেখেন, তাঁর ছেলের মাথায় ব্যান্ডেজ, চোখ বন্ধ।

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে শহীদ আশিকুল ইসলামের মা আরিশা আফরোজ আজ বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১–এ এই জবানবন্দি দিয়েছেন। গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরা ও বনশ্রী এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় দুই সেনা কর্মকর্তাসহ চার আসামির বিরুদ্ধে করা এই মামলায় পঞ্চম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন তিনি।

চার আসামির মধ্যে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সাবেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রেদোয়ানুল ইসলাম ও মেজর মো. রাফাত-বিন-আলম সাবজেলে আছেন। আজ তাঁদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। অপর দুই আসামি পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম ও রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান পলাতক।

জবানবন্দিতে আরিশা আফরোজ বলেন, তাঁর ছেলে আশিকুল বনশ্রী নিবরাস মাদ্রাসায় নবম শ্রেণিতে পড়ত। তিনি দর্জির কাজ করেন। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই তাঁর ছেলে আশিকুল জুমার নামাজ শেষে বনশ্রীর বাসায় এসে তাঁর সঙ্গে খাবার খায়। আন্দোলনকারীদের আওয়াজ শুনে তাঁর ছেলে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যোগ দিতে যায়। তিনি দেখছিলেন, তাঁর ছেলে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে অ্যাভিনিউ রোডে দাঁড়িয়ে আছে। হঠাৎ গোলাগুলি শুরু হলে তাঁর ছেলেসহ আন্দোলনকারীরা দৌড়ে ২ নম্বর রোডের দিকে চলে যায়।

ছেলের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন উল্লেখ করে জবানবন্দিতে আরিশা আফরোজ বলেন, রাত পর্যন্ত ছেলে আসেনি। রাত ১০টার দিকে তিনি বাসার গ্যারেজে হাঁটাহাঁটি করছিলেন ছেলের জন্য। এমন সময় একটি ছেলে তাঁকে জিজ্ঞাস করে, ‘আন্টি কী হয়েছে?’ তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে এখনো বাসায় ফিরেনি, ওর কোনো খোঁজ পাচ্ছি না।’

আশিকুলের মা বলেন, তখন ওই ছেলেটি মোবাইলে একটি ছবি দেখিয়ে বলে, দেখেন, এটা আপনার ছেলে কি না।’ ছবিটি দেখে চিনতে পারেন যে এটি তাঁর ছেলে। ছবিতে তাঁর ছেলের মাথায় ব্যান্ডেজ, চোখ বন্ধ ছিল। ছবি দেখেই তিনি অজ্ঞান হয়ে যান। রাত ১২টার দিকে তাঁর ছেলেকে দেখতে (বনশ্রীর) অ্যাডভান্স হাসপাতালে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা জানান, তাঁর ছেলে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে।

জবানবন্দিতে আরিশা আফরোজ আরও বলেন, পরে জানতে পারেন, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে রেদোয়ানুল ইসলাম, রাফাত-বিন-আলম, রাশেদুল ইসলাম ও মশিউর রহমান গুলি চালিয়েছেন। তিনি ছেলে হত্যার বিচার চান।